আমার মতো কেউ যেন বিচারহীনতার কষ্ট না পায়: প্রধানমন্ত্রী

আমার মতো কেউ যেন বিচারহীনতার কষ্ট না পায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার সাংবিধানিক আদালত বিষয়ক সেমিনারের সমাপনী অধিবেশনে এসব কথা বলেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ অনান্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধ পথে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছে। এর ফলে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। ইনডেমনিটি আইন করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের পথ বন্ধ করা হয়েছিলো।
স্বাধীনতা বিরোধীরা গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জাতির পিতাকে হত্যা করে; অবৈধভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে। দেশে সামরিক শাসন জারি করে। পবিত্র সংবিধানকে নানাভাবে কাটাছেঁড়া করে এবং গণতন্ত্রকেও হত্যা করার চেষ্টা চালায়।
স্বৈরাশাসকেরা সংসদকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে সংবিধানে ৫ম ও ৭ম সংশোধনী এনে তাদের সব অপকর্মকে বৈধতা দিয়েছিল। কিন্তু, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুজ্জীবীত করে। ফলে, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করার প্রয়াস পায়।
শেখ হাসিনা বলেন, সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’ প্রণয়ন করেছে। সে অনুযায়ী, জেলা জজের নেতৃত্বে আইন সহায়তা কমিটি গঠন, স্বতন্ত্র মেট্রোপলিটন সেশন আদালত স্থাপন এবং গ্রামীণ আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ৬৪ জেলার দরিদ্র ও অসহায় বিচার প্রার্থীরা তার সুফল পাচ্ছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর দেশের প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার সম্পন্নকরণে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বিচার বিভাগের বলিষ্ঠ ভূমিকায় জাতীয় চারনেতা হত্যাকান্ডের বিচার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও শক্তিশালী প্রশাসন একটি দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যায়। মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে।
সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতে প্রায় অভিন্ন আইন আছে। বিচারের ক্ষেত্রে নানা সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হতে পারে দুই দেশের বিচারকদের মধ্যে। মামলা জট কমানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এন আর/ বাংলা টিভি



