গণভবনের উঠোন-আঙিনায় প্রতিইঞ্চি জমিতে চাষাবাদ, অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সবাইকে চাষাবাদ বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেই ক্ষান্ত হননি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজেও তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনের উঠোন-আঙিনার প্রতিইঞ্চি জমিকে কাজে লাগিয়ে ফল-ফসলে ভরিয়ে তুলেছেন। একেবারে গ্রামীণ প্রাকৃতিক আবহে গণভবনের ফাঁকা জায়গাগুলোকে আদর্শ এক খামারবাড়িতে রুপান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
গণভবনের বিশাল আঙ্গিনায় হাঁস-মুরগী, কবুতর, গরু পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ধান, শাক-সবজি, ফুল-ফল, মধু ও মাছ চাষ করছেন এদেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে বেড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। দেশের সরকারপ্রধানের এমন কৃষিপ্রেম, অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে প্রতি ইঞ্চি জমিতে আবাদ করতে হবে- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের সবুজ বিপ্লবের ডাক থেকে অনুপ্রানিত হয়েছিলেন তারই কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে কৃষির প্রতি তাঁরও আগ্রহ ছিল প্রবল।
এ দেশের মাটি আলো হাওয়ায় বেড়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভ্যস্ত সাধারণ জীবন যাপনে। দেশের মাটি—মানুষ,কৃষির সঙ্গে মিশে আছে তাঁর প্রাণ। বাবার দেখানো পথ ধরেই টুঙ্গিপাড়ার হাসুমনি আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে গড়ে তুলেছেন বৈচিত্রময় এক কৃষি খামার। গণভবনে এই ফসলি উঠোনে নানা ধরনের ফসলের আবাদ তারই ছোট্ট একটি দৃষ্টান্ত।
কি নেই এখানে- বাঁশফুল, পোলাও চাল, লাল চালসহ বিভিন্ন জাতের ধান; ফুলকপি, পাতাকপি, লালশাক, পালং শাক, ধনেপাতা, গ্রাম—বাংলার জনপ্রিয় বতুয়া শাক, বরোকলি, টমেটো, লাউ, সিমসহ প্রায় সব ধরনের শীতকালীন শাক—সবজি চাষ করছেন গনভবন জুড়ে। এসব ফসল ফলাতে ব্যবহার করা হয় গণভবনে থেকে উৎপাদিত জৈব সার।
এছাড়া গণভবনে তিল, সরিষা, সরিষা ক্ষেতে মৌচাক পালনের মাধ্যমে মধু আহরোণ, হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ, তেজপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের মশলা; আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, বরই, ড্রাগন, স্ট্রবেরিসহ বিভিন্ন ধরনের ফল; গোলাপ, সূর্যলমুখী, গাঁদা, কৃষ্ণচুড়াসহ বিভিন্ন ধরনের ফুলেরও চাষ করছেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজ আঙ্গিনায় আলাদা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরুর খামার, দেশি হাঁস-মুরগী, তিথির, চীনা হাস, রাজহাঁসসহ কবুতরের খামারও করেছেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী গণভবন পুকুরে চাষ করছেন রুই-কাতল, তেলাপিয়া, চিতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। অবসর সময়ে গণভবনের সেখানে মাছও ধরেন তিনি। এছাড়া গণভবন পুকুরের একটি অংশে মুক্তার চাষও করছেন শেখ হাসিনা।
উঠোন-আঙ্গিনায় উৎপাদিত যাবতীয় কৃষিপন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেও ব্যবহারের পাশাপাশি তা বিলিয়ে দেন গণভবনে কর্মরত সকল কর্মচারী এবং দরিদ্র-অসহায় মানুষের মাঝে। দেশের সরকারপ্রধানের কৃষির প্রতি ভালোবাসার এ অন্যন্য দৃষ্টান্ত, সবাইকেই এগিয়ে যাওয়ার পথে অনুপ্রাণিত করবে।



