দুঃসময়ের কান্ডারি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধায় বিদায়

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় চিরবিদায় নিলেন, বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেত্রী জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনরা। এসময় আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, ৭৫ পরবর্তী দুঃসময়ে দলের কান্ডারি ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। দলীয় কার্যালয়ে শেষশ্রদ্ধা নিবেদনের বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাজা শেষে, রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয় দেশবরেণ্য এই রাজনীতিবিদকে।
একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী নানা আন্দোলন-সংগ্রামে আগেও এসেছেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। তবে তাঁর এবারের আসা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন, এবার তিনি এলেন কফিনে মোড়া নিথর দেহে।
বেলা পৌনে ৩টায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়, দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রতি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় নেতারা বলেন, দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রেখেছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিশিষ্টজনেরা বলেন, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে এক অকুতভয় নেতৃত্বকে হারালো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।
এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় দীর্ঘদিনের স্মৃতি বিজড়িত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানো হয় এ বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন সর্বস্তরের মানুষ। পরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় দেশবরেণ্য এই রাজনীতিবিদকে।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজ একজন প্রকৃত অভিভাবককে হারালেন তিনি।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর, সংকটময় মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ১৯৭৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের জাতীয় অধিবেশনে শেখ হাসিনাকে দলের সভানেত্রী হিসেবে মনোনীত করার ক্ষেত্রে সাজেদা চৌধুরী বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
বাংলাটিভি/শহীদ



