
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৪০ রানে আটকে ফেলে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৪৯.৩ ওভারে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে গেছে ১৩৬ রানে। ফলে ৪ রানের রোমাঞ্চকর এক জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রথম ইনিংসে স্পিন ঘুর্নিতে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের নাচানো নাহিদা আক্তার ও সালমা খাতুন প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সফল হননি। সালমা ২৩ রান করে আউট হন। আর শেষ পর্যন্ত ২৫ রানে অপরাজিত থেকে যান নাহিদা। আসরে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ ৩ ও ৭ রানে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ তারা জিতলো ৪ রানে।
১৪১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই হিলি ম্যাথুজের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরে যান শামীমা সুলতানা। রানের খাতাই খুলতে পারেননি এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার। লক্ষ্য খুব বড় না হওয়ায় রানরেটের দিকে না তাকিয়ে খেলতে থাকেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও ফারজানা হক পিংকি।এ দুজনের জুটিতে আসে ৩০ রান। ইনিংসের নবম ওভারে ম্যাথুজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন সুপ্তা। তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ১৭ রান। এরপর উইকেটে আসেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ফর্মে থাকা ফারজানা পিংকির সঙ্গে মিলে দেখে শুনে খেলতে থাকেন তিনি।
ইনিংসের ১৬তম ওভারে গিয়ে পূরণ হয় বাংলাদেশের দলীয় পঞ্চাশ। ঠিক পরের ওভার থেকেই শুরু হয় ক্যারিবীয়দের ঘুরে দাঁড়ানো। টানা তিন ওভার মেইডেন করেন কারিশমা রামহারাক। এর ফায়দা নেন লেগস্পিনার অ্যাফি ফ্লেচার। দুই ওভারে তিন উইকেট তুলে নেন তিনি।
ফ্লেচারের করা ২২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন পিংকি। পরের বলেও সুইপ করতে গিয়ে সোজা বোল্ড হয়ে যান ২৩ রান করা এ টপঅর্ডার ব্যাটার। নিজের পরের ওভারে পরপর দুই বলে রুমানা আহমেদ ও রিতু মণিকে আউট করেন ফ্লেচার। দুজনের কেউই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
কারিশমা-ফ্লেচারের এই স্পেলের ঘুর্ণিতে ১৬ ওভারে ২ উইকেটে ৫১ থেকে ২৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৬৪ রানের দলের পরিণত হয় বাংলাদেশ। অর্থাৎ ৯ ওভারে মাত্র ১৩ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান তিন ব্যাটার। তবু আশার আলো জ্বালিয়ে খেলছিলেন বর্তমান অধিনায়ক জ্যোতি ও সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন।এ দুজনের জুটিতে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ২৫ রান। শেষ স্পেলে বোলিংয়ে এসে জ্যোতিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন হিলি ম্যাথুজ। জ্যোতির ব্যাট থেকে আসে ৭৭ বলে ২৫ রান। এক বল পর বোল্ড হয়ে যান ফাহিমা খাতুন। ফলে ৭ উইকেট হারিয়ে ফের বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
অষ্টম উইকেট জুটিতে আবার আশা জাগান সালমা খাতুন ও নাহিদা আক্তার। এই জুটিতেও আসে ২৫ রান। জয়ের জন্য ৩১ রান বাকি থাকতে ক্যারিবীয় অধিনায়ক স্টেফানি টেলরের বলে কারিশমার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪০ বলে ২৩ রান করা সালমা।
শেষ চার ওভারে ১৮ রানের সমীকরণে ৪৭তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকান নাহিদা। পরে শেষ বলে এক রান নিয়ে স্ট্রাইক নিজের কাছেই রাখেন তিনি। সমীকরণ দাঁড়ায় ১৮ বলে ১৩ রানে। টেলরের করা ওভারে দুই ওয়াইডের পর শেষ বলে সিঙ্গেল নেন নাহিদা।
দেয়ান্দ্র ডটিন করেন ৪৯তম ওভার। সেই ওভারে হয় একটি ওয়াইড। বাকি পাঁচ বলে বাউন্ডারির চেষ্টা করেও সফল হননি নাহিদা। শেষ বলে এক রান নিয়ে স্ট্রাইক রাখেন নিজের কাছেই। শেষ ওভারে বাকি ৮ রান। ক্যারিবীয়দের পক্ষে দায়িত্ব তুলে নেন অধিনায়ক টেলর নিজেই।
শেষ ওভারের প্রথম বলে অন সাইডে মেরে দুই রান নেন নাহিদা। পরের বলে এক রান এলে স্ট্রাইক চলে যায় ফারিহা তৃষ্ণার কাছে। তিনি প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গেলে ৪ রানে জিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নন স্ট্রাইক প্রান্তে অপরাজিত থেকে যান ৬৪ বলে ২৫ রান করা নাহিদা।
বাংলাটিভি/জাবেদ



