Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশসরকারস্বাস্থ্য

বেশিরভাগ মানুষকে টিকাদানের ফলে রোগির চাপ কমেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সারাদেশে ৭৫ ভাগ মানুষকে করোনা ভ্যাকসিন দেয়ার ফলে, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগির সংখ্যা কম- বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তাই হাসপাতালে রোগির চাপও বর্তমানে কম রয়েছে বলে জানান তিনি। বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ক্যান্সার দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায়, একথা বলেন তিনি। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনো ৭০ শতাংশ আইসিইউ বেড খালি রয়েছে। করোনা প্রতিরোধে টিকা নেয়ায় জনসাধারণকে ধন্যবাদও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ডিসেন্ট্রালাইজড-এর অর্থ হলো, ঢাকার হাসপাতালগুলিতে যে মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়, সেই একই মানের চিকিৎসাসেবা যাতে দেশের ৮টি বিভাগেই পাওয়া যায় সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যেই দেশের ৮টি বিভাগে উন্নত ও আধুনিক মানের ১৫ তলা বিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনী, লিভারের মত অতি ক্ষতিকর রোগগুলির চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ৮টি হাসপাতাল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। এখানে প্রায় ১,৪০০ বেড বৃদ্ধি হবে; কেবল ক্যান্সার চিকিৎসার জন্যই।’

তিনি বলেন, দেশের আনাচে-কানাচে প্রায় ১৮ হাজারের মত কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে সেখানে প্রায় ৩২ রকমের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। এতে শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষজন উপকৃত হচ্ছে। এভাবে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের জন্য উন্নত মানের যন্ত্রপাতি কিনে, প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে, দেশের মফস্বল হাসপাতালে ভালো চিকিৎসক পদায়ন করে সর্বোত্র ঢাকার মত সমপর্যায়ের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে।

ক্যান্সার রোগের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে সভায় জাহিদ মালেক জানান, দেশে বর্তমানে বছরে ৬৭ ভাগ মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়। দেশে এখন প্রায় ২০ লাখ ক্যান্সার রোগী আছে। প্রতিবছর দেশে ১ থেকে দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে। সে তুলনায় দৈনিক ক্যান্সারে ২০০ থেকে ৪০০ মানুষ মারা যাচ্ছে যা খুবই উদে¦গজনক। সময় মতো ক্যান্সার রোগটি ধরা গেলে রোগটি নিরাময় করা যায়। কিন্তু দেরি করে ধরা পড়লে রোগটি থেকে রোগীকে বাঁচানো অনেক কঠিন হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ক্যান্সার হবার আগেই ক্যান্সার যাতে না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। বায়ু দুষণ, শব্দ দুষণ, খাদ্যে নানা রং মেশানো বা ক্ষতিকারক ওষুধ মেশানোর মাধ্যমে দিন দিন ক্যান্সার অনেক বেড়ে যাচ্ছে। খাদ্য চাষে কীটনাশকের ব্যবহার, তামাকের কারণেও ক্যান্সার বেড়ে যাচ্ছে। বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। মানুষকেও জীবন মানের গুরুত্ব বুঝতে হবে এবং সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমান সরকার ব্যাপক কাজ করছে বলেই মহামারি করোনায় বিশ্বের অনেক দেশে আগেই দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ মানুষকে টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের কারণেই করোনার ৩য় ঢেউ আমাদের কাবু করতে পারেনি। করোনায় এবার রোগী কম, মৃত্যু সংখ্যাও কম হচ্ছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের এই সফলতা ধরে রাখতে সকলকে নিজ নিজ কাজে তৎপর ও নিষ্ঠাবান থাকতে হবে।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিয়া, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মু. সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button