Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
দেশবাংলাঅন্যান্য

গেন্ডারিয়ায় গরীবদের সহযোগিতা করতে শিশুরা মিলে গড়ে তুলে চাইল্ড ক্লাব

গেন্ডারিয়া এলাকার ৬৫০ জন শিশু মিলে গড়ে তুলে চাইল্ড ক্লাব। তাদের মিটিং এর জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ টাকা করে বিস্কুট। অর্থাৎ ৬৫০০ টাকার বিস্কুট কিনে কোন একটি প্রোগ্রামে তাদের খাওয়ার কথা কিন্তু না খেয়ে এবার এই সকল শিশুরা বেশ কঠিন পদক্ষেপ নিল। তারা মনে করে বিস্কুট সে তো যখন তখনই খাওয়া যায়। বাবার কাছে বায়না করলেও এনে দিবে। কিন্তু একসাথে ৬৫০০ টাকা এই হিসাবটা তো বেশ বড়।

এই শিশুরাই গত ১৬ মাস যাবত তাদের বড় ভাই বোনদের সাথে সহযোদ্ধা হিসাবে কাজ করেছে কোভিড-১৯ মোকাবেলায়। কোভিড-১৯ এর সময় তারা সর্বক্ষন কাজ করেছে ছোট শিশুদের জন্য। কখনও তারা অন্যান্য প্রতিবেশি বন্ধু শিশুদের সচেতন করেছে আবার কখনও হাত ধোয়া কর্মসূচীতে শিশুদের যথাযথ নিয়মে হাত ধুইয়ে দিতে সার্বিক সহযোগীতা করেছে।

বিশেষ করে গণ টীকা কার্যক্রমের সময় এই সকল শিশুরা যারা বয়সে বড় তারা অন্যান্যদের টীকা নিবন্ধন করতে  সার্বিকভাবে সহযোগীতা করেছে।

চাইল্ড ক্লাবের শিশু সোহান তার বাবা দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ তাছাড়া তার মাও বর্তমানে কোন কাজ করে না চারজনের সংসার তাদের। তাদের সংসারে রয়েছে ৪ জন এদের খাওয়া-দাওয়া এবং অন্যান্য খরচ সোহানের মা আর চালাতে পারছিল না।

সোহানের এই দুঃসময় তার চাইল্ড ক্লাবের বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নেয় যে তাদের নাস্তা খাওয়ার টাকা দিয়ে সোহানের পরিবারের পাশে দাড়াবে। সেই সাথে তাদের আরেকজন বন্ধু মিলনের মা তাদের অবস্থাও করোনা পরবর্তী খুবই খারপভাবে দিন চলছে। মিলনদের ঘরেও উপার্জন করার মত তেমন কেউ নেই বললেই চলে। চাইল্ড ক্লাবের শিশুরা তাদের সিদ্ধান্তনুযায়ী বন্ধু সোহান এবং মিলন পরিবারের জন্য সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা তাদের পরিবারের জন্য অল্প কিছু হলেও উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিবে।

শিশুরা এই দুই বন্ধুর মায়ের সাথে কথা বলে তারা জানায় যে যদি তাদের চা বিক্রির উপকরণ কিনে দেওয়া হয় তাহলে তারা চা বিক্রি করতে পারবে। এই ব্যবসায় তেমন কোন লোকসান নেই বললেই চলে, খুব অল্প পুজিঁতে এই ব্যবসা করা যায়। শিশুরা মায়েদের ইচ্ছেনুযায়ী প্রতিজনের জন্য দুটি করে বড় চায়ের ফ্লাস্ক, বালতি, চায়ের কাপ নিয়ে আসে। এই সকল উপহার সামগ্রী শিশুরা তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। শিশুরা চাইল্ড ক্লাব গঠন করার পরবর্তী সময় থেকেই এই ভাবেই মানুষের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছে।

শিশু সোহানের মা বিলকিস বেগম বলেন,“তোমরা যারা তোমাদের নাস্তার টাকা দিয়ে আমার উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিয়েছো আমার সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করেছো সকল শিশুদের জন্য দোয়া করি তোমরা যেন শিক্ষিত মানুষ হতে পারো।”

শিশু রাফসান বলে,“চাইল্ড ক্লাবের পক্ষ থেকে আমাদের দুজন বন্ধুর উপকার করতে পেরে আমরা আনন্দবোধ করছি। মিলন  আর সোহান ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকবো।”

বাংলাটিভি/ এস

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button