মহামারীকালে দেশে মুরগী ও মাছের খামার গড়েছেন কুয়েত প্রবাসী ইলিয়াস

করোনা মহামারীতে দেশে মুরগী ও মাছের খামার গড়েছেন কুয়েত প্রবাসী ইলিয়াস বীন শওকত। নিজ এলাকাসহ আশপাশের মানুষের খাদ্যপুষ্টি নিশ্চিতের তাগিদে গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের খামার। মহামারী করোনার কারনে নিজে দেশে না এলেও কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে ফোন ও ভিডিও কলে নিজের স্বপ্নপূরণের প্রশিক্ষন দিতে থাকেন । এরপরেই শওকতের ভার্চূয়াল দিকনির্দেশনায় বরিশালের গৌরনদীতে প্রতিষ্ঠিত হয় তার স্বপ্নের খামার। যেখানে এখন কাজের সুযোগ পেয়েছেন স্থানীয় অনেক বেকার। এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিন পালরদী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী ইলিয়াস বীন শওকত বিদেশে খাদ্য পুষ্টির বিষয় নিয়ে কাজ করেন। প্রবাস শুরুর প্রথম থেকেই নিজ এলাকার মানুষের জন্য খাদ্য পুষ্টি নিশ্চিত করে এমন খামার গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
কিন্তু বিদেশে চাকুরী করার কারনে দেশে ফেরার সময় থাকে ছকে বাঁধা। তাই বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও সফল হতে পারেন নি কুয়েত প্রবাসী ইলিয়াস বীন শওকত। তবে করোনা মহামারীর এই দুর্যোগকে কাজিয়ে লাগিয়ে এবার পূরন করেছেন তার স্বপ্ন।
কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে ভার্চুয়াললি প্রাথমিক প্রশিক্ষন দিয়ে প্রায় দেড় বছর আগে শুরু করেছিলেন মুরগী ও মাছের খামার।যা এখন ৩ শ মুরগী এবং পাঁচ শ একুরিয়াম ফিসের নান্দনিক খামারে রুপ নিয়েছে। এই অর্জনে আনন্দিত কুয়েত প্রবাসী শওকতের ছেলে আদিত্য। করোনা মহামারীর এই দু:সময়টাকে বাবার নির্দেশনা আর তার ভার্চুয়াল প্রশিক্ষন কাজে লাগিয়ে, বাবার স্বপ্ন পূরন করতে পেরে সত্যিই নিজেকে সফল ভাবছেন আদিত্য নামের এই যুবক। যা আগামীতে আরো মানুষকে উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
১০টি একুরিয়াম ফিস কিনে শুরু করা মাছের খামারে এখন পাঁচশত বিভিন্ন প্রজাতির রঙ্গীন মাছ খেলা করে। যা এলাকার যুবকদের মাঝেও তৈরী করেছে নতুন উদ্যম। কবুতরের ঘরগুলোও সাজানো আছে এই প্রবাসীর খামারে।
প্রবাসীর এমন সাফল্যপূর্ন উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।একসময়ে শখের এসব উদ্যোগগুলোই বানিজ্যিকভাবে সফলতা পায়। তাই সময় নষ্ট না করে নিজ দেশ ও এলাকার জন্য এভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানান স্থানীয়রা।
বাংলাটিভি/শহীদ



