
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনের সুফল হিসেবেই ডিএনসিসি এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম।
১৪ আগস্ট,শনিবার সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলের নিকটস্থ মধুবাগ এলাকায় “দশটায় ১০ মিনিট প্রতি শনিবার, নিজ নিজ বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার” বাস্তবায়নপূর্বক উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে স্লোগানটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরার সময় ডিএনসিসি মেয়র একথা বলেন।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে নগরবাসীর সচেতনতার কারণেই অন্যান্য এলাকার তূলনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তূলনামুলক অনেক কম রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী গতকাল মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১০ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন মাত্র ৩২ জন।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ডিএনসিসি এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা রাজধানীর মোট আক্রান্তের তুলনায় অনেক কম হলেও এটিকে শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যেই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এডিস মশা, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় কাউন্সিলরসহ ডিএনসিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী মাঠে সক্রিয় থাকবে।
মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, বলেন, নগরবাসীর কল্যাণে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪৬টি নগর সাস্থ্যকেন্দ্রেই ডেঙ্গু রোগের ফ্রি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ডিএনসিসি মেয়র বলেন, নিজেদের সুস্থতার জন্যই সবাই মিলে “দশটায় ১০ মিনিট প্রতি শনিবার, নিজ নিজ বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার” এই স্লোগানটিকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সামাজিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে।
নিজেদের বাসাবাড়িতে ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ডাবের খোসা, চিপসের খোলা প্যাকেট, বিভিন্ন ধরনের খোলা পাত্র, ছাদ কিংবা অন্য কোথাও যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মোঃ আতিকুল ইসলাম নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তিন দিনে এক দিন, জমা পানি ফেলে দিন”, তিন দিনে একদিন না হলেও সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন হলেও স্বচ্ছ জমা পানি ফেলে দিন।
“সবার ঢাকা” মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করেও যে কোন নাগরিক অতি সহজেই সরাসরি তার মতামত কিংবা অভিযোগ তুলে ধরতে পারছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই উক্ত সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন।
হাসপাতালগুলোতে কোন জায়গা নাই, মাস্ক ছাড়া কোন গতি নাই। তাই আমাদের প্রত্যেককেই সঠিকভাবে মাস্ক পরিধানসহ সরকারী নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যবিধিসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জোবায়দুর রহমান এবং স্থানীয় কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাটিভি/এস



