
আসন্ন বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সার্বিক ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে চলতি বাজেটের তুলনায় প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয় ধরে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার হচ্ছে ছয় লাখ দুই হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, করোনার পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজেটে স্বাস্থ্য খাত ও সামজিক নিরাপত্তা খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তবে নিশ্চিত করতে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার।
মহামারি করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বিশ্ব অর্থনীতি, ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। কেবল প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ ছাড়া অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নেতিবাচক।
এমন বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সার্বিক ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এবারের বাজেট বক্তব্যের প্রতিপাদ্য রাখা হচ্ছে ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’।
প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ছয় লাখ দুই হাজার ৮৮০ কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটের তুলনায় প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। সম্ভাব্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি- এডিপির প্রাথমিক আকার নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। যা চলতি এডিপির তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। তবে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বাজেটের ঘাটতিও সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ দুই লাখ ১৪ হাজার ২৭২ কোটি টাকা।
তবে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম মনে করেন, ঘাটতি বেশি থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য।
একই মত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মির্জা আজিজুল ইসলামেরও, তিনি বলেন- বাজেটে ঘাটতি বেশি থাকলেও মূল্যস্ফিতি বাড়ার শঙ্কা নেই।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্টির সভাপতি রিজওয়ান রহমান মনে করেন, করোনায় কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানে বাজেটে নতুন উদ্যেক্তা তৈরির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তাই ব্যবসা-বানিজ্য সম্প্রসারণে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফিসহ সব ধরণের ব্যবসায়িক ফি মওকুফ করার মতো পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন এই ব্যাবসায়িক নেতা।
বাংলাটিভি/এস



