
গেল এক যুগে দেশের স্বাস্থ্যখাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়াসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও মিলেছে। স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে রোল মডেলে পরিণত করেছে।
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই স্বল্পসংখ্যক নগরবাসীর শহুরে স্বাস্থ্যসেবা হতে বিপুল গ্রামীণ জনকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সাফল্যের শুরু। দেশের বৃহত্তর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোরায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি থানায় একটি করে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।
২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে আবারও কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের কাজ শুরু করেন। এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৩ হাজার ৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপিত হয়েছে- যেগুলোতে চিকিৎসাসহ, ৩০টি ওষুধও বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাসে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
এমনকি, শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে দেশ এখন ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে। এ ছাড়া যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় সফলতার হার এখন ৯৪ শতাংশ। থামানো গেছে এইচআইভির বিস্তারও। হেপাটাইটিস-বি, মাম্পস, রুবেলা ও নিউমোনিয়ার টিকাও এখন সরকারি টিকা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই এর সফল বাস্তবায়ন এবং প্রান্তিক পর্যায়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ায় স্বাস্থ্যখাতের এই সাফল্য।
এ ছাড়া চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণ এবং এতে মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণেও বাংলাদেশের অর্জন আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ এখনো করোনার ভ্যাকসিন না পেলেও, বাংলাদেশে এরইমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দেয়া সরকারের বড় সাফল্য বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি



