
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দি ছিলেন লেখক মুশতাক আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার কারাগারের ভেতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যেরা হলেন, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও উম্মে হাবিবা ফারজানা।
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে বন্দি থাকা অবস্থায় কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উন্নত দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক করপোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) ১৩টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা।
এদিকে, ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূতরা এক যৌথ বিবৃতিতে শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কী পরিস্থিতিতে মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ঘটেছে, তার দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বানও জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূতরা। এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্য ও কানাডার হাইকমিশনাররা।
মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি বিদ্রূপাত্মক কার্টুনের ক্যাপশন দেয়া এবং সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে গত বছর মে মাসে আটক হওয়া লেখক মুশতাক আহমেদ কাশিমপুর কারাগারে বৃহস্পতিবার অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।



