
দেশ বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান মারা গেছেন। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সূত্রাপুরের নিজ বাসভবনে মারা যান তিনি। একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শ্বাসকষ্ট নিয়ে ক’দিন ধরেই ভুগছিলেন তিনি। গত বুধবার রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালেও নেয়া হয়। অক্সিজেন কমে গিয়েছিলো। সেখানে চিকিৎসা শেষে শুক্রবারই বাসায় নিয়ে আসা হয় তাকে। এরআগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে কয়েক দফায় অসুস্থ হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন চলচ্চিত্রের এই কালজয়ী অভিনেতা। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। সেসময় তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন।
১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে এটিএম শামসুজ্জামান জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। প্রথম চিত্রনাট্যকার হিসেবে তিনি কাজ করেছেন ‘জলছবি’ সিনেমায়। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন বর্ষীয়ান এ অভিনেতা। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-জলছবি, জীবন তৃষ্ণা, স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা, যে আগুনে পুড়ি, মাটির ঘর, মাটির কসম, চিৎকার ও লাল কাজল ইত্যাদি।
তবে ১৯৬৫ সালে অভিনেতা হিসেবে এটিএম শামসুজ্জামানের সিনেমায় অভিষেক ঘটে। ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খলনায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য খণ্ড নাটক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য এ অভিনেতার একমাত্র পরিচালিত সিনেমা ‘এবাদত’। এখন পর্যন্ত পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এ কিংবদন্তি। কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে’ সিনেমার জন্য দুটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান তিনি। এরপর ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ এবং ‘চোরাবালি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য একই পুরস্কার লাভ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। এ অভিনেতার মৃত্যু সাংস্কৃতিক অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজা শেষে এই অভিনেতাকে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বাংলাটিভি/শহীদ



