
একুশে পদক প্রাপ্ত বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খান মারা গেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটায় নিজ বাসাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ডায়াবেটিকসসহ বার্ধ্যক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।
স্ত্রী অপর্ণা খান জানান, রাত সাড়ে আটটায় ইস্কাটন গার্ডেনের নিজ বাসায় রাহাত খানের মৃত্যু হয়। রাতে তার মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলা একাডেমি এবং শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়া হয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাহাত খান হৃদরোগ, কিডনি ও ডায়াবেটিকস জনিত রোগে ভুগছিলেন। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললেও করোনা সংক্রমণের কারণে তিনি ঘরেই টেলিমেডিসিনের সহায়তায় চিকিৎসা সেবা নিচ্ছিলেন।
১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পূর্ব জাওয়ার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রাহাত খান। বাংলাদেশের কথা সাহিত্যিকদের অন্যতম খ্যাতিমান ছিলেন রাহাত খান। ছোটগল্প উপন্যাস দু’দিকেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। ১৯৭২ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অনিশ্চিত লোকালয়’ প্রকাশিত হয়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হোন। বিখ্যাত সিরিজ মাসুদ রানা চরিত্র তার অনুসরণেই তৈরি করা।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত হলেও কর্মসূত্রে তিনি আপাদমস্তক সাংবাদিক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কাজের মধ্যে দিয়ে তার সাংবাদিকতা জীবনের হাতেখড়ি।পরে দৈনিক ইত্তেফাক প্রত্রিকায় কাজ করেন।পরবর্তীতে পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। শেষবেলাতে তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে কিছুদিন জোট পারচেজ ও বিমা কোম্পানিতে চাকরি করেন। এরপর ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন।
তার বিশাল কর্মজীবনে একুশে পদক ছাড়াও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার, সুফী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার, ত্রয়ী সাহিত্য পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কারে ভূষিত হোন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার পৃথক শোকবার্তায় এ শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘রাহাত খানের মৃত্যু দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’
অপর এক শোকবার্তায় সাংবাদিক রাহাত খানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত এই গুণীজনের সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে অবদানের কথা স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বাংলাটিভি/রাজ



