ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলা: ট্যারান্টকে আমৃত্যু কারাদণ্ড

ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৫১ মুসল্লিকে হত্যার দায়ে হামলাকারি ব্রেন্টন ট্যারান্টকে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের আদালত। একইসঙ্গে, সাজাভোগের সময় প্যারলেও মুক্তির কোন সুযোগ থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সময় মসজিদ এলাকার বাইরে এছাড়া আরো ৪০ জনকে হত্যা চেষ্টাসহ তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই দিন অল্পের জন্য বেঁচে যান বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা।
২০১৯ সালের ১৫ মার্চ, দিনটি ছিলো শুক্রবার। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তখন পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে তখন নিউজল্যান্ডে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুটি টেস্টও খেলেছেন তামিম-মুশফিকরা। বাকি থাকা একটি টেস্টের মাঝে, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে অন্য সব মুসল্লিদের সাথে তারাও জুম্মা’র নামায পড়তে যাচ্ছিলেন।
এলোপাথাড়ি গোলাগুলির শব্দে দ্রুত সরে এসে প্রাণে বেঁচে যান তারা। কিন্তু যারা মসজিদের ভেতরে ছিলেন, আততায়ী বন্দুকধারীর বর্বরোচিত হামলায় প্রাণহারান তারা।
সেমি-অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে দু’টি মসজিদে হামলা চালায় অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন ট্যারান্ট। যা ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিংও করেন তিনি। ঘটনার পরপরই পুলিশ গ্রেপ্তার করা হয় হামলাকারীকে।
দীর্ঘ সময়ের বিচারিক কার্যক্রম শেষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্রেন্টন ট্যারান্টকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় নিউজিল্যান্ড আদালত। চার দিনের বিচার শুনানিতে সাক্ষ্য দেন হামলায় বেঁচে যাওয়া এবং ভুক্তভোগীদের স্বজনদের পরিবার।
বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায়ে জানানো হয়,প্যারোলে মুক্তির সুযোগও পাবেন না তিনি। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকায় তাকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
৫১ জনকে হত্যা, ৪০ জনকে হত্যাচেষ্টা ও ভাঙ্গচুরসহ মোট ৯২টি মামলায়, দায় স্বীকার করেছেন ট্যারান্ট। সাজার রায়ে ট্যারান্টের কৃতকর্মকে অমানবিক ও ক্ষমার অযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন বিচারক।
মোহাম্মদ হাসিব, বাংলা টিভি



