লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২ বাংলাদেশীসহ শতাধিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চার হাজারের বেশি মানুষ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে সমুদ্র বন্দরের কাছে রাসায়নিকের গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের নৌবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। বিস্ফোরণে আশপাশের বাড়িঘর উড়ে যায়। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় শহরটি। রক্ষা পায়নি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও স্থাপনা।
বিস্ফোরণের পরপরই ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখা যায় বৈরুতের আকাশে। অন্তত দেড়শো মাইল দূর থেকে শোনা যায় শব্দ।
লেবানিজ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান জানান, সমুদ্র বন্দরের কাছে একটি রাসায়নিক গুদাম থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত। বন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মজুদ থাকা কয়েক টন নাইট্রেট বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।
এঘটনায় মিজান ও মেহেদী হাসান নামে ২ বাংলাদেশী নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বন্দর এলাকায় বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জাহাজ বিএনএস বিজয় আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, জাহাজে থাকা কয়েকজন নৌ-সেনাসহ শহরের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত আরো বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিষ্ফোরণের পরই বৈরুতে জরুরী অবস্থা জারী করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসান হামাদ জানান, হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এদিকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান ডিয়াব জানান, এ বিপর্যয় বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বিস্ফোরণের জন্য দায়ীদের চড়া মাশুল দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। বিপর্যয় কাটাতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়েছে লেবানন সরকার।
ইসরাইলের সঙ্গে লেবাননের সীমান্ত নিয়ে অনেকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। তবে, ঘটনার পরপরই ইসরাইলী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদের কোন যোগসূত্র নেই।
বাংলাটিভি/শহীদ



