বন্ধ থাকা ফেনী-ত্রিপুরা মৈত্রী হাট ফের চালু

জাকের হায়দার, ফেনী : ২০১৫ সাল থেকে বন্ধ থাকা ফেনী-ত্রিপুরা বর্ডার হাট আবার চালু হয়েছে। ২০১৫ সালে ফেনীর ছাগলনাইয়ার রাধানগর ইউনিয়নের মোকামিয়া গ্রামে ও ভারতের আগরতলার ত্রিপুরার সাব্রুম গ্রামে চালু হয় দুই দেশের বর্ডার বা সীমান্ত হাট। চালুর পর থেকে দুই দেশের ভেন্ডর ও ভেন্ডিজরা নানা অভিযোগ তুলে বেচা-কেনা বন্ধ করে দেয়।
পরে দুই দেশের প্রশাসন ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি বৈঠক করে আবার হাট চালুর ঘোষণা দেন। কয়েক মাস চালু হলেও নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়ে আবারো বন্ধ হয়ে যায় হাট। গত সোমবার দুই দেশের সংস্লিষ্টরা বৈঠক করে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাজার চালু রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ফেনী জেলা প্রশাসনের এডিএম গোলাম জাকারিয়া এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন, আগরতলা মহোকুমার এডিএম সেম চন্দ্র দে। বৈঠকে পূর্বের পন্য তালিকা থেকে কাটছাট করে ভারতীয় দোকান থেকে বাংলাদেশীরা কিনতে পারবেন হরলিক্স ৩টি, চা পাতা ২ কেজি, ডাল ১৫ কেজি, চাল ৫ কেজি, শাড়ী ৩ পিচ, গার্মেন্টস সামগ্রী ৮ পিচসহ ২শ ডলারের পন্য।
অপর দিকে ভারতীয়রা বাংলাদেশী দোকান থেকে কিনতে পারবে ডাল ২৫ কেজি, মাছ ৮ কেজি, শুটকি ৮ কেজি, পেয়াজ ১০ কেজি, প্লাস্টিক পন্য ১০ কেজি, আদা ১০ কেজিসহ অপরাপর পন্য নিয়ে ২শ ডলার ব্যয় করতে পারবে।
এসময় উভয় দেশের প্রশাসন আন্তরিকতা এবং সমঝোতার মধ্য দিয়ে আগামীতেও এ বাজার ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে চালু রাখবে এমন আশা ব্যক্ত করেন দুই দেশের দুই ব্যবসায়ী নেতা ব্যবসায়ি নেতা আতাউর ও নেতা সুজিদ দে। এদিকে মালামাল বেচা-কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিমাবদ্ধতার কথা জানান, ফেনী জেলা প্রশাসনের এডিএম গোলাম জাকারিয়া।
এছাড়া কোন দ্বন্দ এবং বৈষম্য ছাড়াই ফেনী-ত্রিপুরা বর্ডার হাটটি সুষ্ঠুভাবে চলবে এমন প্রত্যাশা ২ দেশের বর্ডার ব্যবসায়ীদের। ভাতৃপ্রতিম দুই দেশের এই হাট চালু থাকার মাধ্যমে যেনো মৈত্রির বন্ধন অটুট থাকে সে দিকে খেয়াল রাখার আহবান জানিয়ে বৈঠক শেষ হয়।
বৈঠকে ফেনীর এনডিসি আবদুল, ওসি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলা টিভির সাংবাদিক জাকের হায়দার সুমন, একুশে টিভির নজরুল ইসলাম রনজু, সাংবাদিক তৌহিদ আহমেদ তুষার চৌধুরী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল হক মাহবুবসহ ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



