প্রবাসে বাড়ছে বাংলাদেশী অপহরণের ঘটনা

স্পেনে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার রায়হান ভূঁইয়া জনিকে অপহরণের পর, অমানবিক নির্যাতন করেছে দালাল চক্রের দুর্বৃত্তরা। নির্যাতনের সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ২৫ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায়, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগীতা চেয়েছেন জনির পরিবার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউপির হীরাপুর বড় কুড়িপাইকা গ্রামের শাহনেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে রায়হান ভূঁইয়া জনি। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ২০১৮ সালে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপের দেশ স্পেন যেতে লিবিয়ায় পাড়ি জমান। কিন্তু চলতি বছরের জুন মাসে জনিকে লিবিয়া থেকে অপহরণ করে তার ওপর চালানো হয় পাশবিক ও অমানুষিক নির্যাতন। অপহরণকারী চক্র নির্যাতনের সেই ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। নির্যাতনের ভিডিও দেখে সহ্য করতে না পেরে সর্বস্ব বিক্রি করে মুক্তিপণ হিসেবে দাবিকৃত ২৫ লক্ষ টাকা একাধিক কিস্তিতে পরিশোধ করলেও দালালচক্র জনিকে ফেরত দেননি বলে জানান তার বাবা।
এ প্রসঙ্গে জনির বাবা বলেন, জনি লিবিয়া পোঁছানোর পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিল, কারো সাথে কোনো যোগাযোগও করেনি। এরই মধ্যে একদিন বিদেশ থেকে একটা ফোন আসে এবং জনির জীবনের বিনিময়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে জনিকে মেরে ফেলবে বলে হুমকিও দেয়। এর কিছুদিন পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় জনির ওপর চালানো নির্যাতনের দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে ছেলেকে বাঁচাতে নিজের সর্বস্ব বিক্রি করে ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ হুন্ডির মাধ্যমে পাঠাতে বাধ্য হই।
এ অবস্থায়, জনিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের একান্ত সহযোগীতা চান জনির পরিবার। এছাড়া প্রবাসে গিয়ে কোন মায়ের সন্তান কনোভাবেই যেন নির্যাতনের শিকার না হয়, তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জনির বাবা।
বাংলাটিভি/ সৌরভ নূর


