কাশ্মীরে কারফিউ জারি, সেনা মোতায়েন; বদলা নেয়ার হুমকি মোদির
ভারত অধ্যুষিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী সিআরপিএফের ৪৪ জওয়ান নিহতের প্রতিবাদ বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে জম্মু শহর। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ফলে সেখানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ভয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে কারফিউ জারি এবং স্থগিত করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা।
হামলাকারীরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় পার্ক করে রাখা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। সন্ত্রাসী হামলায় সিআরপিএফের বহু জওয়ান হতাহতের প্রতিবাদে জম্মুতে শুক্রবার সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী স্লোগান দেন ও বিভিন্ন প্রতিবাদী দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় এদিন সড়ক অবরোধ করে সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্ষুব্ধ জনতা।
ইরানি গণমাধ্যম পার্সটুডের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল বজরং দল, শিবসেনা ও ডোগরা ফ্রন্টের নেতৃত্বে মোমবাতি মিছিল করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সেখানকার জনতা। বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালানোসহ সড়কে থাকা অনেক গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। দিনভর সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা জনসাধারণকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন।
জম্মুর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রমেশ কুমার বলেন, আমরা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কারফিউ জারি করেছি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাজ্যের পুলওয়ামা জেলার আওয়ান্তিপুরা এলাকায় সিআরপিএফের প্রায় ৭৮টি গাড়ি লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় বাহিনীর ওপর এটাই সবচেয়ে বড় হামলা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় প্রায় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় অন্তত ৪৪ জন জওয়ান নিহত হয়। হামলার পর দায় স্বীকার করেছে জইশ-ই-মুহাম্মাদ নামের একটি সংগঠন। যাদের অবস্থান পাকিস্তান সীমান্তে।
ভারতের দাবি, এই হামলার পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে। এ ইস্যুতে পাকিস্তানকে একঘরে করার ঘোষণাও দিয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ভারত সরকার ও ভারতের গণমাধ্যমের পাকিস্তানের ওপর দায় চাপানো কোনোভাবেই যুক্তসিঙ্গত না বলে বিবৃতি দিয়েছেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় ৪০ পুলিশের মৃত্যুর বদলা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মোদি বলেন, দেশের জন্য আত্মত্যাগ করা বীরদের রক্ত বৃথা যেতে দেয়া হবে না।
বাংলাটিভি/রাজ



