জম্মু কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ পুলিশ সদস্য নিহত

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) গাড়িবহরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে পুলওয়ামা জেলার ওই হামলায় ৪০ ভারতীয় পুলিশ নিহত হয়েছেন বলে জানায় দেশটির গণমাধ্যম। এতে বহু পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনডিটিভির বরাত দিয়ে বলা হয়, বৃহস্পতিবার পুলওয়ামা জেলার শ্রীনগর-অনন্তনাগ মহাসড়ক দিয়ে জম্মু থেকে শ্রীনগর যাচ্ছিল সিআরপিএফ’র ৭৮টি কনভয়। পথে আওয়ানতিপরাতে একটি গাড়িতে আগে থেকে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের গুলি বিনিময়ও হয়। আহতদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে সেনা সদস্যরা উদ্ধার করে শ্রীনগরের হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েস-ই-মোহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিছা টাইপের মাহিন্দ্র গাড়িতে হামলাকারীরা ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে আত্মঘাতী এ হামলা চালিয়েছে। ৭৮টি গাড়িতে আড়াই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ছিল। মহাসড়কের গোরিপরা এলাকায় বহরের একটি গাড়ির সঙ্গে হামলাকারীদের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এরপর সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়। যে গাড়িটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, সেটিতে পুলিশের ৩৯ সদস্য ছিলেন। প্রথমে গাড়িটিকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তিনি লিখেছেন, সাহসী পুলিশ সদস্যদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। গোটা দেশ তাদের সঙ্গে আছে। সৈন্যদের পরিবারের সদস্যরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই শোককে মোকাবেলা করবে। আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভে প্রার্থনা করছি। কাপুরুষিত এ হামলার তিব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদল কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী । তিনি নিহতের প্রতি গভীর শোক, তাদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা এবং আহতদের দ্রত সুস্থতা কামনা করেন। এর আগে ঘটনার বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ টুইট করেন, উপত্যকা থেকে ভয়ঙ্কর সংবাদ আসছে। আইইডি বেঁধে রাখা গাড়ির বিস্ফোরণে সিআরপিএফের অনেক জওয়ান নিহত ও আহত হয়েছেন। আমি এই হামলার নিন্দা জানাচ্ছি। আহতদের সুস্থতায় দোয়া এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে জম্মু ও কাশ্মীরের উরিতে সেনাক্যাম্পে হামলা করে ১৯ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এমন বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটল বৃহস্পতিবার।
ওই হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ভেতরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দাবি করেছিল। যদিও পাকিস্তান সে দাবি উড়িয়ে দিয়েছিল। পরে এই উরি হামলা ইস্যুতে দুদেশের মধ্যে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি হয়।
বাংলাটিভি/রাজ



