
বিনম্র শ্রদ্ধায় মানবকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবু বকর চৌধুরীকে বিদায় জানালেন তাঁর বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীসহ সর্বস্তরের সাংবাদিকরা। আজ মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আবু বকর চৌধুরীর মরদেহ আনা হলে প্রেসক্লাবজুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চেনা অচেনা সব মুখ ছুটে আসেন সেখানে। বেলা আড়াইটার দিকে তাঁর জানাজায় অংশ নেওয়ার পর সতীর্থ, সহকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আজ মঙ্গলবার ভোর রাতে নিজ বাসায় গুরুতর অসুস্থবোধ করায় ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা আবু বকর চৌধুরীকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানান, ভোরে ধানমণ্ডির বাসায় আবু বকর চৌধুরী স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তাঁর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণা করেন মানবকণ্ঠের প্রকাশক ও উপদেষ্টা সম্পাদক জাকারিয়া চৌধুরী, লুপ্ত দৈনিক আজকের কাগজের আবু বকর পরবর্তী নিউজ এডিটর খালেদ ফারুকী, বিএফইউজের ওমর ফারুক চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ, সমকালের চিফ রিপোর্টার লোটন একরামসহ অন্যরা। সঞ্চালনা করেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী।
মানবকণ্ঠের প্রকাশক ও উপদেষ্টা সম্পাদক জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, ‘বকর ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী, নির্লোভ, দায়িত্ব সচেতন এবকজন কর্মঠ সাংবাদিক। তিনি চলে যাওয়াতে আমি আমার আপন ভাইকে হারিয়েছি।’
সঞ্চালনার ফাঁকে আবু বকর চৌধুরীকে সহকর্মী হিসেবে দেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সোহেল হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বকর ভাই (আবু বকর চৌধুরী) সবার আপন ছিলেন। যখন যে হাউসে কাজ করেছেন সেখানেই সম্পূর্ণ নিবেদিত হয়েই কাজ করেছেন। সবাই তাকে খুব পছন্দ করতেন। খুব ভালোবাসতেন। তিনিও সবাইকে খুব কাছে টেনে নিতে পারতেন। তার কাছে তরুণ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে।
আবু বকর চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, উনার সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই, আপনারা উনার সম্পর্কে সবই জানেন। সহজ সরল মানুষ ছিলেন। ডাক্তারের কাছে পর্যন্ত যেতেন না। জোর করে নিয়ে যেতাম আমরা। আমার মা বলতো এটা আমার লক্ষ্মী ছেলে। যদি উনার কথায় কেউ কখনও কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে উনাকে মাফ করে দিয়েন এবং দোয়া করবেন।
১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক প্রত্যায়ন পত্রিকায় সাংবাদিকতার শুরু করেন আবু বকর চৌধুরী। পরের বছর যোগ দেন সাপ্তাহিক খবরে। সাপ্তাহিক থেকে ১৯৯৫ সালে বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন আজকের কাগজে। ২০০৭ সাল পর্যন্ত এখানেই সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দৈনিক আমাদের সময়, সকালের খবর ও সমকালে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১২ সালে তিনি বার্তা সম্পাদক হিসেবে দৈনিক মানবকণ্ঠে যোগ দেন, ২০১৭ সালে হন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক। ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এর আগে বাদ জোহর ধানমণ্ডির বাসার পাশের মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে আবু বকর চৌধুরীর মরদেহ আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাংলাটিভি/পাইক



