গ্যাস সিলিন্ডারে ১ লাখ পিস ইয়াবা, টেরই পেল না ডিবি পুলিশ

বাংলা টিভি ডেস্ক: কুমিল্লায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তল্লাশি এড়িয়ে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একটি মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে চালক আব্দুল মালেক ওরফে হাসান মাঝির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্ট মহলেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কানজরপাড়া এলাকা থেকে চালক হাসান মাঝি ও তার সহকারী সৈয়দ নুর ওরফে নুরুল আমিন একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে ১৫ হাজার ইয়াবা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি সদস্যরা পুরো গাড়ি তল্লাশি করেও কোনো মাদক উদ্ধার করতে পারেননি। পরে আরও নিশ্চিত হতে গাড়িটি পদুয়ার বাজারের একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে বিভিন্ন অংশ খুলে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। তাতেও কিছু না পাওয়ায় রাতে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে অভিযোগ ওঠে, ডিবি পুলিশের নজর এড়িয়ে চালক ও তার সহযোগীরা নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে ইয়াবার চালান অন্যত্র বিক্রি করে আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার থেকে মাদকচক্রের কয়েকজন সদস্য ফোন করে দাবি করেন, মাইক্রোবাসটির গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে প্রায় এক লাখ ইয়াবা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। সিলিন্ডারটিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল যে সেটি স্বাভাবিক গ্যাস সিস্টেমের অংশ বলেই মনে হচ্ছিল।
কুমিল্লা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার বলেন, গাড়ির কোনো অংশই তল্লাশির বাইরে রাখা হয়নি। তবে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে মাদক লুকিয়ে রাখা হতে পারে—এমন ধারণা তাদের ছিল না। তিনি বলেন, সোর্সের দেওয়া তথ্য সঠিক নয় মনে হওয়ায় গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে গ্যাস সিলিন্ডারে ইয়াবা থাকার তথ্য জানার পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মাইক্রোবাসটি এবং চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে। তবে গ্যাস সিলিন্ডারে এক লাখ ইয়াবা থাকার দাবি এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।



