
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলকে ঘিরে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এবার সেই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন আর্সেনালের সাবেক তারকা ইয়ান রাইট। তার দাবি, গোল হওয়ার আগে মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ ফাউলের শিকার হলেও সেটি আমলে নেওয়া হয়নি। তাই আর্জেন্টিনার শেষ গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে তিনটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোলটি করেন। তবে গোলের আগে সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন আইটিভি স্পোর্টের বিশ্লেষক ইয়ান রাইট। তার ভাষ্য, ভিএআর যদি একটি আক্রমণের শুরুতে ঘটে যাওয়া ঘটনাও পর্যালোচনা করে গোল বাতিল করতে পারে, তাহলে সালাহর ওপর হওয়া ফাউলও একইভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
রাইট বলেন, সালাহকে আঘাত করা হয়েছিল। সেটি হয়তো বড় ধরনের ছিল না, কিন্তু ফাউল হয়েছিল। এরপরই আর্জেন্টিনা পাল্টা আক্রমণে গিয়ে গোল করে। তাই একই মানদণ্ডে বিচার করলে ওই গোলটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল বাতিল নিয়েও আলোচনা চলছে। ওই আক্রমণের শুরুতে মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন। পরে ভিএআরের পরামর্শে রেফারি মনে করেন, বল দখলের সময় ফাউল হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘারও। তার মতে, একই ধরনের ঘটনা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর কোনো ম্যাচে ঘটলে ভিএআর সাধারণত গোল বহাল রাখত। তিনি টুর্নামেন্টজুড়ে ভিএআর ব্যবহারে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারও এ বিতর্কে নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বিবিসির প্রতিবেদক ডেল জনসনের একটি পোস্ট পুনঃশেয়ার করে লেখেন, দুটি ঘটনাকেই যদি একই মানদণ্ডে দেখা না হয়, তাহলে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তার মতে, হয় উভয় ঘটনাই ফাউল, নয়তো কোনোটিই ফাউল নয়।



