নির্বাচনের দিন নিহত বিএনপির নেতার মরদেহ তোলা হলো কবর থেকে

বাংলা টিভি ডেস্ক: খুলনায় জাতীয় নির্বাচনের দিন নিহত মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচির মরদেহ আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পর সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নগরীর টুটপাড়া কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহটি তুলে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর আবেদনের পর আদালত মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুনশিখানা শাখা থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন খুলনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যু হয়। তিনি খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দেওয়ার প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলা হয়। একপর্যায়ে আলিয়া কামিল মাদ্রাসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুর রহিম সরদার তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে ঘটনার পর কচির মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্নমত সামনে আসে। বিএনপি দাবি করে, হামলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল দাবি করেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সে সময় চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও শরীরে গুরুতর দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থাকায় এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে পিবিআই মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহতের পরিবার শোকাহত থাকায় ঘটনার কিছুদিন পর খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ হারুন (মজনু) আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা ওই মামলায় আবদুর রহিম সরদারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। পরে আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে অর্পণ করেন।
মামলার বাদী ইউসুফ হারুন (মজনু) বলেন, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রের ভেতরে কচির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মহিবুজ্জামান কচি খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।



