
দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা। বেলা পোনে ১২টার দিকে দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ শামীম এর পরিচালনায় মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে মঙ্গলবার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ইজতেমা ময়দানে হাজির হন মুসল্লিরা।
সকাল ১০টায় ইজতেমার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, বেলা পোনে ১২টার দিকে শুরু হয় মোনাজাত। মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। মোনাজাতে ৩৬টি দেশের প্রায় ১২’শ বিদেশি মেহমান অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইজতেমা কর্তৃপক্ষ। আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে মধ্যরাত থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস থেকে আব্দুল্লাহপুর, মীরের বাজার থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। জনদুর্ভোগ কমাতে মোনাজাত শেষ হওয়ায় পরপরই ইজতেমা ময়দানের আশেপাশের যানচলাচল সীমিত করা হয়েছে।
মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদফতর ও গাজীপুর জেলা তথ্য অফিস বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। ইজতেমার ময়দানের বাইরে অবস্থানকারী মুসল্লি ও পথচারীদের মোনাজাতে শরিক হতে ইজতেমা ময়দানের বাইরে আশেপাশের এলাকায় শতাধিক মাইকের সংযোগ দেওয়া হয়।
এর আগে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই রবিবার তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। ভোরে ফজরের নামাজের পর, টঙ্গীর তুরাগ তীরে ভারতের মাওলানা ইকবাল হাফিজের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে দিল্লি মারকাজের অনুসারীদের অংশগ্রহণে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্যায়ের ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা।
টঙ্গির তুরাগ তীরে সাদপন্থিদের পরিচালনায় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন সোমবার ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে সময় পার করেন মুসল্লিরা। পাশাপাশি ধর্মীয় আলোচনা আর জিকির-আজকারে অংশ নেন তারা। ফজরের নামাজের পর দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরুব্বি, মাওলানা মোরসালিনের ধর্মীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাদপন্থী তাবলিগ জামাতের দ্বিতীয় দিনের বয়ান। সকাল থেকে উত্তরের বাতাস আর কুয়াশাকে পাশ কাটিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বয়ান তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে সময় কাটান।
প্রথম দিনের বৈরি আবহাওয়ায় সাদপন্থী মুরুব্বিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার ঢাকায় স্বরাষ্ট্র ও ধর্মমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়। পরে ইজতেমার সময় একদিন বাড়ানো হয়। প্রশাসন ইজতেমার সময় বাড়ানোয় মুসল্লিরা সন্তুষ্টি জানান। তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের যৌথ আয়োজনে ইজতেমা হচ্ছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তায় র্যাব, পুলিশ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করেন। যানজট নিরসনেও কাজ করেন তারা।
বাংলাটিভি/রাজ



