‘ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে’

বাংলা টিভি ডেস্ক: সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার (২৬ জুন) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় তিনি নিহতের কবর জিয়ারত করেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সীমান্ত হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানান।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সীমান্তে নিহতদের কোনো পৃথক পরিচয় নেই—তারা বাংলাদেশি নাগরিক। তার অভিযোগ, শুধু বাংলাদেশি হওয়ার কারণেই সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইন লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধু সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণই সমস্যার সমাধান নয়। সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক অস্ত্র, যানবাহন, অবকাঠামো ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ভবিষ্যতে সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ড আর ঘটতে দেওয়া হবে না। তিনি সীমান্তবাসীকে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি যদি দেশের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে কথা বলতে পারে, তাহলে দেশের ছাত্র-জনতাও তাদের পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে মো. মুজিব আলী নিহত হন। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।



