স্কুলছাত্র গুলি খাবে, আর আপনি ওসি থাকবেন এটা হতে পারে না: এমপি মনিরুল

বাংলা টিভি ডেস্ক: কুমিল্লা নগরীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম (১২) গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে নগরীর কাটাবিল এলাকায় আহত শিক্ষার্থীর বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য।
এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ী থাকবে, একজন স্কুলছাত্র স্কুলে যেতে পারবে না; তারপর আপনি ওসি থাকবেন, আমি এমপি থাকব এটা ঠিক না। এই পরিবারের কাছে কী জবাব দেবেন?’
এ সময় তিনি আহত শিক্ষার্থীর মায়ের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারটিকে সান্ত্বনা দেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মাদক কারবারিদের কাছে আমরা আত্মসমর্পণ করব, নাকি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব; এখন সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় এসেছে। একজন নিরীহ স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হবে, আর আমরা দায়িত্বে থেকে শুধু দেখব, তা হতে পারে না।’
মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আইনের আওতায় আনতেই হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলব। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি দ্রুত এই ঘটনার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই।’
আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে এমপি জানান, ঢাকায় ইথানের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এ সময় ইথানের মা সোনিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অপু ও সাব্বির এই দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। বৃহস্পতিবার আমার ছেলে স্কুলে গিয়েছিল। টিফিনের সময় বাসায় ফেরার পথে তার পিঠে গুলি লাগে। সে আমার একমাত্র সন্তান। ওর কিছু হলে আমি কী নিয়ে বাঁচব?’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, হামলা ও গুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধ হয়।
ইথান কাটাবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ওই এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুস মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।



