নেতানিয়াহুকে ‘ডিভোর্স’ দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা উপত্যকা নিয়ে প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ না করায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে নতুন প্রকাশিত একটি বইয়ে।
মার্কিন সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ গ্রন্থে দুই নেতার মধ্যকার একটি উত্তপ্ত ফোনালাপের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম মঙ্গলবার (২৩ জুন) বইটির কয়েকটি আলোচিত অংশ প্রকাশ করে।
বইটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাজা সংকটকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ওই কথোপকথন হয়। সে সময় ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত শান্তি উদ্যোগে সম্মতি দিতে ইসরায়েলের ওপর জোরালো চাপ প্রয়োগ করছিলেন। ফোনালাপের সময় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও উপস্থিত ছিলেন।
বইয়ে দাবি করা হয়েছে, আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। এমনকি এই কক্ষে থাকা দুজন ইহুদিও তোমার ওপর অসন্তুষ্ট।’ তিনি মূলত কুশনার ও উইটকফের কথাই উল্লেখ করছিলেন, যারা দুজনেই ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্য।
এছাড়া ট্রাম্প আরও বলেন, ‘অনেকেই তোমাকে সমালোচনা করছে, অথচ আমি সবসময় তোমার পাশে থেকেছি।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা হলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয়ের বিষয়ে একসময় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে একে অপরের প্রশংসা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং শান্তি প্রচেষ্টার অগ্রগতি নিয়ে মতপার্থক্য বাড়তে থাকায় দুই নেতার সম্পর্কেও টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেখা যায়।
তবে বইয়ে উল্লিখিত এসব বক্তব্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তখনও প্রকাশিত হয়নি।



