
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার ম্যাচটি গোলশূন্য সমতায় শেষ হওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আফ্রিকান ঐতিহ্যের ‘জুজু’ বা কালো জাদুর বিষয়টি। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ প্রত্যাশামতো কার্যকর না হওয়া এবং অধিনায়ক হ্যারি কেইনের গোলশূন্য থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও রসিকতা ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ঘানার কিছু সমর্থকের ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাদের সাদা পাউডার ছিটিয়ে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলের সাফল্য কামনা করতে দেখা যায়। ম্যাচের ফলাফলের সঙ্গে এই দৃশ্যের মিল টেনে অনেকেই বিষয়টিকে হাস্যরসের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করেন।
এর আগেই ঘানার পরিচিত তান্ত্রিক নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম দাবি করেছিলেন যে তিনি এমন এক অভিশাপ দিয়েছেন, যার কারণে হ্যারি কেইন গোল করতে পারবেন না। যদিও এমন দাবির পক্ষে কোনো বাস্তব বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহের কারণে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।
পুরো ম্যাচে ইংল্যান্ড একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ঘানার সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে ব্যর্থ হয়। শেষদিকে নিকো ও’রেইলির একটি জোরালো শট ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। এরপর যোগ করা সময়ে হ্যারি কেইনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুজু’ নিয়ে অসংখ্য মিম ও মজার পোস্ট দেখা যায়। অনেক সমর্থক রসিকতার ছলে দাবি করেন, ঘানার সমর্থকদের জাদুই নাকি ইংল্যান্ডকে গোল করতে বাধা দিয়েছে।
ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়রাও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে না নিয়ে মজার ছলেই দেখেছেন। মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস বলেন, দলটি গোলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোনোভাবেই সফল হতে পারেনি। তাই হাস্যরসের ভঙ্গিতে তিনি মন্তব্য করেন, হয়তো সেদিন ঘানার ‘জুজু’ই বেশি শক্তিশালী ছিল।
বাস্তবে কালো জাদুর বিষয়টি লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির অংশ হলেও, ইংল্যান্ড-ঘানা ম্যাচের পর এটি বিশ্বকাপ ঘিরে অন্যতম আলোচিত আলোচনায় পরিণত হয়েছে।



