
বাংলা টিভি ডেস্ক: ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানের দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র জানায়, রিমান্ড শেষে জিসানকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দির এক নারী জিসান মিয়া প্রধানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং পরে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করলে জিসান আত্মগোপনে চলে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জিসানের পরিবারের দাবি ছিল, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে তার স্বজনরা থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন। যদিও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বরং তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিমান্ডে পাওয়া তথ্য তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। অভিযোগ ওঠার পর সংগঠনটি তাকে বহিষ্কার করেছে।



