‘২০ বছর হাফ ভাড়ায় চলে ডাক্তার হওয়া শিক্ষার্থী ঠিকই পুরো ফি রাখেন’

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজধানীর এক বাসচালকের বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার সুবিধা দেওয়ার পর তারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য কী অবদান রাখেন।
ভিডিওতে ওই চালক বলেন, একজন শিক্ষার্থী স্কুলজীবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দুই দশক গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার সুবিধা ভোগ করেন। এ সময় পরিবহন শ্রমিকরা তাদের যাতায়াত সহজ করতে ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে সেই শিক্ষার্থীরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শ্রমিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা বা সহমর্মিতা খুব কমই দেখান।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, হাফ ভাড়ায় চলাচল করা অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তীতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা বিচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। কিন্তু প্রয়োজনের সময় পরিবহন শ্রমিকদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা বা সহযোগিতা তারা দেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকেও অন্য সবার মতোই পূর্ণ ফি পরিশোধ করতে হয়।
চালক আরও দাবি করেন, পরিবহন শ্রমিকরা শিক্ষার্থীদের নিজেদের পরিবারের সদস্যের মতোই দেখেন এবং নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভাড়া বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে সামান্য বিরোধ দেখা দিলেই অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করা হয়।
ভাইরাল ভিডিওটির পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই শ্রমিকের বক্তব্যে সহমত প্রকাশ করে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন দেওয়া সুবিধার পেছনে শ্রমিকদের অবদান নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে অনেকে মনে করেন, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার বিষয়টি কোনো ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নয়; এটি রাষ্ট্র ও গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি সামাজিক নীতি। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করা দেশের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের অংশ, তাই এটিকে ব্যক্তিগত দেনা-পাওনার দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই।
ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



