Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

চীনা নাগরিকের সঙ্গে চুক্তিতে তরুণীর বিয়ে, ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা

নীলফামারী প্রতিনিধি (ডিজিটাল): নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড এলাকায় কর্মরত এক চীনা নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ফেসবুকে দাবি করা হচ্ছে, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিতে এই বিয়ে হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিয়েটি আইনিভাবে আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে; চুক্তির বিষয়টি তাদের জানা নেই।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ১০ জুন কোর্ট এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মোছা. মাইশা আক্তার জুইয়ের সঙ্গে চীনা নাগরিক লিয়াউ বেইরু ছেলে মিস্টার লিয়াউ জিচুন (বর্তমান নাম নুর মোহাম্মদ) কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে মুসলিম ধর্মগ্রহণ করে তিন লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহরের মাধ্যমে নগদ ৫ হাজার টাকা দিয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। জুই উত্তরা ইপিজেডের ‘মেইগো বিডি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। সেখানে কর্মরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে কোর্ট এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে পারিবারিকভাবে ১৮ জুন বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিয়ের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কনেকে মাইক্রোবাসে ওঠার সময় কাঁদতে দেখা যায়। এরপরই নেটিজেনদের একাংশ দাবি করতে শুরু করেন, এটি কোনো স্বাভাবিক বিয়ে নয়, বরং তিন বছরের জন্য ১০ লাখ টাকার একটি চুক্তি। এই নিয়ে ফেসবুকে নানা নেতিবাচক মন্তব্য ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেককে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা।

তবে রুহুল আমিন নামে একজন মন্তব্য করে বলেন, “উত্তরবঙ্গের মানুষ টাকার জন্য মা বোনকেও বিক্রি করে দেয়, প্রশাসন কি দেখে না।”

আল আমিন নামে একজন ফেসবুকে লিখেন, এসব পরিবারে মানুষকে ধরে কঠিন শাস্তি দেওয়া দরকার। এছাড়া চিনা নাগরিক আস্তে আস্তে এ দেশের মেয়েগুলোকে নিয়ে নির্যাতন চালাচ্ছে।

জানতে চাইলে রুবিনা আক্তারের বাবা ছলেমান হোসেন মুঠোফোনে (অনুরূপ) বলেন, এ বিষয়ে আমি ফোনে কোনো তথ্য দিতে পারব না। আপনারা আমার বাসায় আসেন, সামনাসামনি কথা হবে।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, থানায় এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তারা কোর্ট এফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিতে বিয়ের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button