Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

অভাবে মেয়েকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি, স্ত্রীকে জানান ‘জিন-পরী নিয়ে গেছে’

বাংলা টিভি ডেস্ক: মাগুরায় অর্থের অভাবে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুকে স্ত্রীর অগোচরে বিক্রি করে দিয়েছেন সাগর হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তি। পরে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে স্ত্রীকে ‘জিন-পরি’ নিয়ে যাওয়ার গল্প শোনানোর পাশাপাশি ঝাড়ফুঁকেরও আয়োজন করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় বিক্রি হয়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামে ঘটেছে।

জানা গেছে, গত ২৭ মে মাত্র ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশু টুকটুকিকে মাগুরা সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার শাহাবুর রহমান ও মনিরা খাতুন দম্পতির কাছে তুলে দেন সাগর হোসেন। তবে পুরো বিষয়টি গোপন রেখে স্ত্রী তানজিলা খাতুনকে ভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।

একদিন সকালে বিছানায় শিশুটিকে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তানজিলা। তখন সাগর তাকে জানান, ‘জিন-পরি’ শিশুটিকে নিয়ে গেছে। বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি জিন তাড়ানোর নামে এক ফকিরকে বাড়িতে এনে ঝাড়ফুঁকেরও ব্যবস্থা করেন।

কিন্তু সন্তানের প্রতি মায়ের টান তানজিলাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। শিশুটির রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সন্দেহ দেখা দিলে তিনি বাড়ির পাশের শত্রুজিতপুর পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মাগুরা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ বীরপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে নবজাতক টুকটুকিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা তানজিলা খাতুন ও তার স্বজনরা।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির বাবা সাগর হোসেন, ক্রেতা শাহাবুর রহমান ও মনিরা খাতুন দম্পতি এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মাগুরা সদর হাসপাতালের কর্মচারী সুজয়কে আটক করেছে পুলিশ।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, মায়ের কোল হারা শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুটির ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে দারিদ্র্যতা কখনোই সন্তান বিক্রির অজুহাত হতে পারে না। এটি জঘন্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্রেতা দম্পতির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়; তারা গরু বিক্রি করে বাচ্চাটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। তবে কম বয়সী এই দম্পতি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা পাচারের জন্য বাচ্চাটি কিনেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শিশুটির মা তানজিলা খাতুন বলেন , আমার আগে থেকেই দুটি সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের মাত্র ১৩ মাসের মাথায় তৃতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ায় আমি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি। দুটি সন্তানই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হওয়ায় চিকিৎসা ও সংসারের খরচ বেড়ে যায়। আমার মনে হয় দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও পারিবারিক চাপের কারণেই আমার স্বামী এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। যত কষ্টই হোক, কোনো মা তার সন্তান অন্যকে দিতে চায় না। আমার স্বামী ভুল করেছে তাকে ক্ষমা করে দিন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button