গাইবান্ধায় জমি বিরোধে হত্যা ও লুটপাট মামলার আসামি গ্রেপ্তার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি (ডিজিটাল): গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে সায়েদ আলী সরকারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩ -এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
এর আগে, আজ ভোর রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝপাড়া উত্তর শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সায়েদ আলী সরকার উপজেলার নাকাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হত্যা মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের পক্ষ থেকে বলা হয়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী শাহ আলম প্রধানের পরিবারের দখলীয় জমি নিয়ে আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রায় দেড় শতক জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে আসামিপক্ষ সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করে। বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১২ মে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হলেও তা মেনে নেয়নি আসামিরা। এ ঘটনার জেরে বাদীপক্ষের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় গুরুতর আহত হন আনিছুর রহমান। তাকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মে ভোরে তিনি মারা যান।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার পর আসামিরা বাদীপক্ষের দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়, বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এছাড়া নাকাই বাজারে আনিছুর রহমানের বিকাশ এজেন্টের দোকান এবং তার চাচাতো ভাই মেহেদী হাসানের ফার্মেসিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে গত ১৫ মে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে র্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ এর গাইবান্ধা ক্যাম্প এবং র্যাব-১২ এর বগুড়া ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে সায়েদ আলী সরকারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৩ -এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’



