দৌলতপুরে সাপ আতঙ্ক, আক্রান্ত ৮ জনের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার পর মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে নারী-পুরুষসহ তিনজন সাপের কামড়ের শিকার হন। একই দিন সকালে সিয়াম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অপর তিনজন চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
সাপে আক্রান্তরা হলেন- শশীধরপুর গ্রামের সোলাইমান হোসেনের স্ত্রী মাসেদা খাতুন (৩৬), নাহিদুল ইসলামের স্ত্রী বিথী খাতুন (২৬), মহাসিন হোসেনের স্ত্রী বিলকিস আরা (৪৯) এবং রিফাত আলীর ছেলে সিয়াম (১২)। সিয়াম সাপের কামড়ে মারা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন থেকে দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও চারজন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তারা হলেন, বৈরাগীর চর এলাকার তহোর আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী (৫৩), চক কৃষ্ণপুর গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে আল-আমিন (২১), মতিউর রহমানের মেয়ে তাইবা (১০) এবং বাহিরমাটি গ্রামের আসিত হোসেনের স্ত্রী লিপিয়ারা (২২)।
এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে উপজেলায় মোট আটজন সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শশীধরপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে। সোমবার রাতে মাঠসংলগ্ন ডীব এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সিয়ামকে সাপে কামড় দেয়। প্রথমে বিষয়টি টের না পেলেও পরে রাত ১টার দিকে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সকালে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
একই গ্রামের পরের দিন আরও তিনজন নারী সাপের কামড়ের শিকার হন।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে মাঠে-ঘাটে এমনকি বাড়ির আশপাশেও সাপের উপস্থিতি বেড়ে গেছে।
সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন গ্রামবাসী। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সাপের কামড়ে আক্রান্ত বিথী খাতুন ও মাশেদা খাতুন বলেন, সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে বের হচ্ছিলাম। হঠাৎ পায়ে কিছু কামড়ানোর অনুভূতি হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে সাপের কামড় বলে ধারণা করেন। দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসকরা সাপে কামড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যান্টিভেনম দেন। বর্তমানে আমি সুস্থ আছি।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত আরএমও) ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, একই গ্রামের ৪ জনসহ গত দুই সপ্তাহে আমাদের হাসপাতালে মোট আটজন সাপে কাটা রোগী এসেছেন। তাদের মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দুঃখজনকভাবে সিয়াম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে সাধারণত সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। তাই সাপে কামড়ালে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।



