Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশ

বাংলা টিভির প্রতিবেদন প্রকাশের পর আর্থিক সহায়তা পেলেন নিঃসহায় দম্পতি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের চর জাঙ্গালীয়া গ্রামের বৃদ্ধ দম্পতি খলিলুর রহমান ও আছিয়া বেগমের জীবনসংগ্রামের গল্প গণমাধ্যমে প্রকাশের পর মানবিক সহায়তার ঢল নেমেছে। দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটানো এই দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গত ৯ জুন বাংলা টিভি ডিজিটালে প্রচারিত “শুধু দু’বেলা দু’মুঠো ভাত চান, এই নিঃসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়াবে কে” শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে আসে ৭৫ বছর বয়সী খলিলুর রহমান এবং তার স্ত্রী ৬৫ বছর বয়সী আছিয়া বেগমের করুণ জীবনকাহিনি। বার্ধক্য, অসুস্থতা, চরম দারিদ্র্য এবং একমাত্র সন্তান হারানোর বেদনাকে সঙ্গী করে তারা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।

প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, একসময় অন্যের জমিতে হালচাষ ও দিনমজুরি করে সংসার চালালেও বর্তমানে শারীরিক দুর্বলতা ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণে কর্মক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন খলিলুর রহমান। অনেক সময় ঘরে খাবার না থাকায় না খেয়েই দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। মানুষের দান-সাহায্য এবং আশপাশের জমি থেকে সংগ্রহ করা শাকসবজির ওপর নির্ভর করেই চলছিল তাদের জীবন।

প্রতিবেদনটি প্রচারের পর মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন মো. আতিক খান। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বৃদ্ধ দম্পতিকে ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত সংসার পরিচালনায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষও তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।

সব মিলিয়ে বৃদ্ধ দম্পতি প্রায় ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থের পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পেয়েছেন। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মো. আতিক খান বলেন, “প্রতিবেদনটি দেখে আমি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। একজন মানুষ হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব বলে মনে করেছি। এমন মানবিক ও জনসচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানাই।”

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই খলিলুর রহমান ও আছিয়া বেগম চরম কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন। কিন্তু তাদের দুর্দশার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি হয় এবং অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত আছিয়া বেগম বলেন, “আমাদের কষ্টের কথা মানুষ জেনেছে, এটাই অনেক বড় পাওয়া। যারা আমাদের সাহায্য করেছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।”

খলিলুর রহমান বলেন, “মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়ে মনে হচ্ছে আমরা একা নই। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়; অনেক সময় তা অসহায় মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খলিলুর রহমান ও আছিয়া বেগমের জীবনে পাওয়া এই সহায়তা তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button