Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশঅপরাধ

যুবদল নেতাকে হত্যার পর কারাগারে, জামিনে বেরিয়ে আরেক নেতাকে খুন

বাংলা টিভি ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় আলোচনায় এসেছে দিদারুল আলম নামের এক ব্যক্তি, যিনি এর আগেও আরেকটি আলোচিত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পুলিশ সূত্র বলছে, গত বছরের ২২ এপ্রিল রাউজান সদর ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. ইব্রাহিম হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দিদারুলের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও কয়েক মাস পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

এদিকে গত ১৩ জুন রাউজানের বাগোয়ান এলাকায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায়ও দিদারুলের নাম উঠে এসেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের মধ্যে তার উপস্থিতির প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুলিশের তথ্যভান্ডার অনুযায়ী দিদারুলের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও চুরিসহ অন্তত নয়টি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হলেও তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পিয়ারুল হক চৌধুরীর ছোট ভাই। স্থানীয়দের মতে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি এবং নিয়মিত এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কর্ণফুলী নদী কেন্দ্রিক বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি। তদন্তের অংশ হিসেবে বালু ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি একটি দোকানের সামনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও সেখানেই তাকে কাছ থেকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের কয়েকজনকে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার দুই দিন পরও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মুহাম্মদ জাকির নামে এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরিবার মামলা দায়ের করলে এবং তদন্ত আরও এগোলে হত্যার পেছনের কারণ স্পষ্ট হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাউজানে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি এবং বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েছে। গত প্রায় দুই বছরে উপজেলায় একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার বড় অংশ রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button