Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বাংলাদেশঅপরাধ

২ বছর পর জানা গেল, প্রেমিকাকে দিয়ে ‘হানিট্র্যাপে’ বাবাকে খুন করান ছেলে

বাংলা টিভি ডেস্ক: সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ও পারিবারিক ক্ষোভের জেরে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে এক পরিবারের বড় ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরাসরি হত্যাকাণ্ড না ঘটিয়ে তিনি এক নারীকে ব্যবহার করে প্রেমের ফাঁদ তৈরি করেন, যার মাধ্যমে ষাটোর্ধ্ব এক বাবুর্চিকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো জানায়, দীর্ঘ দুই বছর আগে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত ব্যক্তির ছেলে মো. বেলাল হোসেন (৩৫) এবং তার ভায়রা ভাই আব্দুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজের বাবাকে হত্যার জন্য ছেলে ‘হানিট্র্যাপ’ ব্যবহার করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তে জানা যায়, নিহত মীর মজিবুর রহমান খান (৬০) পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে ছেলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরবর্তীতে এক নারীকে ব্যবহার করে ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে ডেকে আনার পরিকল্পনা করা হয়।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ জুন ওই নারী ও সহযোগীদের মাধ্যমে মজিবুর রহমানকে একটি ভাড়া বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো শরবত খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর নির্জন এলাকায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং লাশ ফেলে দেওয়া হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি এবং পরে অপহরণ মামলা দায়ের করেন নিহতের মেয়ে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়া হলে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত বেলাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে তদন্তে আরও জানা যায়, ওই সময় উদ্ধার হওয়া একটি অজ্ঞাত লাশই পরে নিখোঁজ মজিবুর রহমানের বলে শনাক্ত করা হয়, যা প্রথমে পরিচয়হীন হিসেবে দাফন করা হয়েছিল।

পিবিআই বলছে, জমি-জমা ও পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button