দুবাই থেকে যে প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হবে বেনজীর আহমেদকে

বাংলা টিভি ডেস্ক: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস আগেই সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার সময়ই তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
রোববার বেনজীর আহমেদের আটকের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করার পর দুদক এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটির বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা পাঁচটি মামলায় তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৭৬ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে সাধারণ নাগরিক পরিচয়ে একাধিক পাসপোর্ট গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ২০২৫ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুদকের আবেদনের পর বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন পাঠায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার আটকের তথ্য পায়। আমিরাতের আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এনসিবি ঢাকা আন্তর্জাতিক সমন্বয়, রেড নোটিশ-সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং গ্রেপ্তার-পরবর্তী প্রক্রিয়া তদারকি করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে প্রত্যর্পণ আবেদন আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং র্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় তার নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।



