Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
জাতীয়

ফ্যামিলি কার্ড ‘পাবেন না’ যারা

বাংলা টিভি ডেস্ক: প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না করলে কোনো পরিবার এ কার্ডের সুবিধা পাবে না বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করে জনমত আহ্বান করা হয়। সমাজসেবা অধিদফতর প্রণীত এ নীতিমালার মূল দর্শন—‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের একক’। নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ ঘোষিত বৈষম্যহীন সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, পরিবারের নারী সদস্যের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড সংশ্লিষ্ট পরিবারের মা অথবা জ্যেষ্ঠ উপযুক্ত নারী সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে একটি স্থায়ী ‘ওয়ান-আইডি’ নম্বর দেওয়া হবে, যা পরিবারভিত্তিক সম্পর্কযুক্ত ডেটা কাঠামোর মাধ্যমে অন্যান্য সদস্যের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের সমান্তরালভাবে সুবিধা গ্রহণ বন্ধ করা সম্ভব হবে।

উপকারভোগী নির্বাচন করতে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ পদ্ধতিতে স্কোর নির্ধারণ করা হবে। এই স্কোরের ভিত্তিতে জনগোষ্ঠীকে পাঁচটি অর্থনৈতিক স্তরে ভাগ করে অতি দরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দুর্গম হাওড়, উপকূল ও পার্বত্য এলাকায় অতিরিক্ত অগ্রাধিকার পয়েন্ট প্রযোজ্য হবে। তথ্যভান্ডরে জালিয়াতি ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কার্ডটি হবে এনএফসি ও চিপ-ভিত্তিক ডুয়াল ইন্টারফেস স্মার্ট কার্ড। এতে ‘টাকা পে’ অ্যাপলেট যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে এটিএম থেকে অর্থ উত্তোলন করা যাবে। ‘ই-আইডি’ অ্যাপলেটে ছবি ও পরিবারের ২৭ ধরনের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা অফলাইনেও যাচাইযোগ্য। মাঠপর্যায়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে কার্ড সক্রিয়তা পরীক্ষা করা যাবে। সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাবে অর্থ পাঠাতে আইবাস++ পদ্ধতি ব্যবহার হবে।

কারা পাবেন না

নীতিমালায় একটি ‘নেতিবাচক তালিকা’ সংযোজন করা হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী বা নিয়মিত পেনশনভোগী হলে, ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে, চার চাকার মোটরযানের মালিক হলে, নিয়মিত আয়করদাতা হলে কিংবা বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০ দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে না।

দেশব্যাপী কাগজবিহীন ডিজিটাল পরিবার জরিপ পরিচালনা করা হবে। গণনাকারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জিপিএস জিও-ট্যাগিং ও স্থিরচিত্র সংগ্রহ করবেন। দুর্গম অঞ্চলের জন্য অফলাইন সুবিধা থাকবে।

নীতিমালা বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কমিটি এবং জাতীয় কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে পৃথক বাস্তবায়ন ও আপিল কমিটি গঠন করা হবে।

প্রতিবছর জানুয়ারি ও জুলাই মাসে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে উপকারভোগীদের লাইভ যাচাই করা হবে। কোনো পরিবার দারিদ্র্যসীমা অতিক্রম করলে মূল্যায়নের ভিত্তিতে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন যোগ্য পরিবার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

নীতিমালাটি গেজেটে প্রকাশের পর সারা দেশে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button