Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
ধর্ম

ইসলামে সীমান্ত রক্ষার গুরুত্ব ও আখিরাতের প্রতিদান

বাংলা টিভি ডেস্ক: ইসলামের দৃষ্টিতে দেশ, সমাজ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল নাগরিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। মানুষের জীবন, সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা দায়িত্ব পালন করেন, ইসলামে তাদের জন্য বিশেষ মর্যাদা ও সওয়াবের সুসংবাদ রয়েছে।

ইসলামী পরিভাষায় সীমান্ত ও জনপদের নিরাপত্তা রক্ষায় শত্রুর অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে থাকাকে ‘রিবাত’ বলা হয়। কোরআন ও হাদিসে এই আমলের বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা অনেক নফল ইবাদতের চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন আলেমরা।

কোরআনে মুমিনদের ধৈর্য, প্রস্তুতি ও সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা আল-ইমরানের ২০০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, মুমিনদের ধৈর্য ধারণ, সতর্কতা এবং আল্লাহভীতি অবলম্বনের মাধ্যমে সফল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাদিস শরিফে সীমান্ত পাহারার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর পথে এক দিনের সীমান্ত প্রহরা দুনিয়া ও এর সবকিছুর চেয়েও উত্তম। (সহিহ বুখারি: ২৮৯২)

অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে, এক দিন ও এক রাতের রিবাত এক মাসের রোজা ও রাতভর ইবাদতের চেয়েও উত্তম। (সহিহ মুসলিম: ১৯১৩) একই সঙ্গে এ হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অবস্থায় মৃত্যু হলে তার সওয়াব অব্যাহত থাকে এবং কবরের পরীক্ষার ভয় থেকেও তিনি নিরাপদ থাকবেন।

আরেক বর্ণনায় এসেছে, ভয়ংকর পরিস্থিতিতে সীমান্ত পাহারা দেওয়া রাত কদরের রাতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দায়িত্ব পালনের উচ্চ মর্যাদা নির্দেশ করে। (আল-মুস্তাদরাক: ২৪২৪)

অন্য হাদিসে দুটি চোখকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে—একটি আল্লাহভীতিতে অশ্রুসিক্ত চোখ এবং অন্যটি আল্লাহর পথে পাহারারত চোখ। (তিরমিজি: ১৬৩৯)

ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরামের জীবনে সীমান্ত বা গুরুত্বপূর্ণ পথ পাহারার ঘটনা পাওয়া যায়, যেখানে দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে বলে বর্ণিত হয়েছে।

ইসলামি শিক্ষাবিদদের মতে, এই সব বর্ণনা সীমান্তরক্ষী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বের আধ্যাত্মিক মর্যাদা তুলে ধরে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে দায়িত্ব পালন করেন, তবে তারা এসব ফজিলতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে রাষ্ট্র ও জনপদের নিরাপত্তা রক্ষা একটি মহান দায়িত্ব, যা শুধু সামাজিক প্রয়োজন নয় বরং আখিরাতের সফলতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এজন্য সীমান্ত পাহারাকে ইসলামে এক অনন্য মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button