Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
খেলাধুলাফুটবল

প্রবাসীর বাড়ি যেন একখণ্ড জার্মানি

বাংলা টিভি ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনার কমতি নেই। তবে নাটোরের বড়াইগ্রামে জার্মানিপ্রেমী এক প্রবাসীর উদ্যোগ যেন সেই উন্মাদনাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। জার্মান দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে নিজের বাড়ি, আঙিনা, গাছপালা এমনকি আশপাশের পরিবেশও জার্মান জাতীয় পতাকার রঙে সাজিয়েছেন তিনি।

বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর এলাকার বাসিন্দা ও জার্মানিপ্রবাসী সাগর কুলেন্তুনুর এক একর আয়তনের বাড়ির আঙিনা এখন অনেকের কাছে ‘জার্মান কর্নার’ হিসেবে পরিচিত। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে টাঙানো হয়েছে প্রায় ৪০টি জার্মান পতাকা। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১০টি জাতীয় পতাকাও উড়ানো হয়েছে, যা জার্মান পতাকার চেয়ে আরও উঁচুতে স্থাপন করা হয়েছে।

শুধু পতাকা নয়, বাড়ির টিনের চাল, দেয়াল এবং বিভিন্ন প্রজাতির দুই শতাধিক গাছও রাঙানো হয়েছে জার্মান পতাকার কালো, লাল ও হলুদ রঙে। আঙিনাকে ফুটবল মাঠের আদলে সাজিয়ে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে জার্মান দলের খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতি, গোলপোস্ট এবং বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপ। এছাড়া জার্মানির চারটি বিশ্বকাপ জয়ের স্মারক তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

ব্যতিক্রমী এই সাজসজ্জা দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি এখন ‘জার্মান বাড়ি’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, সাগর কুলেন্তুনু পড়াশোনা শেষে প্রথমে বাহরাইনে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে জার্মানিতে গিয়ে নার্সিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে ডর্টমুন্ডের একটি হাসপাতালে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন।

২০২৩ সালে নিজের বিয়ের সময়ও তিনি জার্মান পতাকার আদলে বাড়ি সাজিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। এবার বিশ্বকাপ উপলক্ষে সেই সাজসজ্জাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গেছেন।

সাগরের স্ত্রী এলমিনা সরকার জানান, তার স্বামীর পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো বাড়িটি সাজানো হয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বাড়িটি দেখতে আসছেন, যা তাদের কাছে আনন্দের বিষয়।

পাবনা থেকে বাড়িটি দেখতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি ব্রাজিলের সমর্থক হলেও জার্মানির পতাকার রঙে সাজানো এই বাড়ির নান্দনিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের মতে, এটি শুধু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি সৃজনশীল উদ্যোগও। একজন মানুষের আগ্রহ ও নান্দনিক চিন্তা কীভাবে একটি সাধারণ বাড়িকে দর্শনীয় স্থানে পরিণত করতে পারে, তারই উদাহরণ এই আয়োজন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button