
বাংলা টিভি ডেস্ক: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা জিসান প্রধানের কথিত অপহরণের ঘটনার নতুন তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। এদিকে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন এক নারী।
শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধারের পর তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তদন্তে অপহরণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে জিসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে নারীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধের মাধ্যমে তার গর্ভপাত করানো হয়। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান সম্মতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যে জিসান নিজেই লুকিয়ে ছিলেন এবং তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করান। পরে তার ‘উদ্ধারের’ খবর প্রকাশ হওয়ার পর শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, জিসানকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক সম্পর্কের জটিলতা থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় ধর্ষণ, ভ্রূণ নষ্ট করাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। জিসান প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।



