যেখানে বিয়ের পথে বাধা এক বালতি পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশ-এর মহোবা জেলার বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের একটি গ্রাম এখন তীব্র পানিসংকটের কারণে গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকেই ওই গ্রামের মানুষদের জীবন শুরু হয় পানি সংগ্রহের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে।
স্থানীয় মুধারা গ্রাম-এ নারীরা কলসি-বালতি নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে পানি সংগ্রহে যান, শিশুরাও স্কুলে যাওয়ার আগে পানি আনতে সাহায্য করতে বাধ্য হয়। প্রবীণরাও তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানির অপেক্ষায় থাকেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ‘নমামী গঙ্গে’ প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন ও পানির ট্যাংক স্থাপন করা হলেও বাস্তবে আজও সেখান থেকে নিয়মিত পানি সরবরাহ শুরু হয়নি। একবার পরীক্ষামূলকভাবে পানি এলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
বর্তমানে গ্রামের প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ মাত্র কয়েকটি হ্যান্ডপাম্প ও একটি কূপের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে বেশিরভাগ হ্যান্ডপাম্পের পানি লবণাক্ত হওয়ায় পানযোগ্য নয়, ফলে একটি মাত্র উৎসই কার্যত পুরো গ্রামের ভরসা।
পানির এই সংকট এখন কেবল দৈনন্দিন কষ্টেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামে বিয়ের উপযুক্ত প্রায় ৪০ জন যুবক থাকলেও পানির অভাবে অনেক পরিবার এই গ্রামে মেয়ের বিয়ে দিতে আগ্রহ দেখায় না।
একজন প্রবীণ বাসিন্দার ভাষায়, পানির অভাব এতটাই প্রকট যে বিয়ের আলোচনাতেও প্রথম প্রশ্ন আসে পানি নিয়ে। এই সংকট এখন সামাজিক বাধায় পরিণত হয়েছে।
নারীরা জানান, পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের পুরো জীবন কেটে যাচ্ছে, আর শিশুরা পড়াশোনার সময় হারাচ্ছে। একাধিক পরিবারকে অতিথি আপ্যায়নের জন্য বাইরে থেকে ট্যাংকারে পানি আনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামবাসীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে বলছেন, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তাদের ভাষায়, তারা বিলাসিতা চান না—শুধু নিরাপদ পানির নিশ্চয়তাই তাদের মূল দাবি।
এই সংকটকে ঘিরে গ্রামে এখন গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছে, আর পানির অভাবই হয়ে উঠেছে তাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে বড় সামাজিক সংকট।



