
বাংলা টিভি ডেস্ক: নওগাঁর পোরশা উপজেলা-এর এক গ্রামে কবর খননের সময় প্রাচীন পাথর সদৃশ কিছু বস্তু উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘাটনগর ইউনিয়নের কালুকান্দর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা মণ্ডল প্রায় ছয় মাস আগে মারা গেলে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওই কবর খননের সময় মাটি সরানোর এক পর্যায়ে কালো, সাদা ও বাদামি রঙের মোট পাঁচটি পাথর সদৃশ বস্তু পাওয়া যায় বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা। কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তুগুলোর নিচে ‘আল্লাহু’ লেখা ছিল বলেও দাবি ওঠে।
পরে কৌতূহলবশত বস্তুগুলো সাময়িকভাবে স্থানীয় একজনের কাছে রাখা হলেও পরবর্তীতে মোস্তফা মণ্ডলের পরিবারের সদস্যরা সেগুলো নিজেদের হেফাজতে নেন। এরপর একপর্যায়ে সেগুলো আবার কবরস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিষয়টিকে অলৌকিক ব্যাখ্যা হিসেবে মানতে নারাজ এবং প্রাচীন মূল্যবান প্রত্নসম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। স্থানীয়রা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বারবার বৈঠক এড়িয়ে গেছেন এবং পাথরগুলোর অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে গ্রামের একাংশ উত্তেজিত হয়ে উঠলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ফজলুর করিম আরজু বলেন, ওই অঞ্চলটি প্রাচীন সভ্যতার অংশ হওয়ায় সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্তের মাধ্যমে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।



