
বাংলা টিভি ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মূলত বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষাই প্রধান ছিল। তবে এই কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি তৃতীয় বিদেশি বা আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ চালু করা হবে, যা ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধীরে ধীরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে কারিকুলাম সংস্কার ও নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে একটি পৃথক অধ্যায় সংযোজন করা হচ্ছে, যা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যসূচিতে থাকবে। এছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন চারটি বই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ এবং ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ নামে দুটি বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে আরও দুটি বই যোগ করার কথা রয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক সদস্য জানিয়েছেন, নতুন বইগুলো শিক্ষার্থীদের শারীরিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক বই যুক্ত করা নিয়ে কিছু শিক্ষাবিদ প্রশ্ন তুলেছেন।
শিক্ষাব্যবস্থায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চাপমুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মানসহ একাধিক ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



