ভিক্ষাবৃত্তির জন্য শিশু অপহরণ চক্রের দুই নারী সদস্য গ্রেপ্তার, ৩ শিশু উদ্ধার

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে শিশু অপহরণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের দুই নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পোড়াদহ রেলওয়ে থানা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকা থেকে অপহৃত তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান খুলনা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার আহমদ মইনুল হাসান।
গ্রেপ্তার দুই নারী হলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাটদহ চর গ্রামের ফতে আক্তার ও শাহনাজ বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ শিশু অপহরণ ও ভিক্ষাবৃত্তি চক্রের সক্রিয় সদস্য।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে শিশুদের অপহরণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেয়। পরে ওই শিশুদের রেলস্টেশনসহ জনবহুল এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল সকালে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে সিফাত (১০) ও মোমিন (৯) নামে দুই শিশুকে সুকৌশলে অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর ট্রেনে করে তাদের যশোরে নিয়ে গিয়ে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। সিফাতের বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার রাজনগর গ্রামে। তার মায়ের নাম শেফালী আক্তার।
এ ঘটনায় গত ৬ জুন পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে ফতে আক্তারকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশু অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাহনাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে দুই আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত অবস্থায় তিন শিশুকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। পরে ওই কেন্দ্র থেকে পোড়াদহ স্টেশন এলাকা থেকে অপহৃত দুই শিশুসহ মোট তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, উদ্ধার হওয়া তৃতীয় শিশুটির বাড়িও কুষ্টিয়ায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশু অপহরণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।



