বাড়ি ফিরতে চায় পুশইনের শিকার ছোট্ট রোজিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় পরিবার নিয়ে বসবাস করত ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার। পড়াশোনা আর পরিবারকে ঘিরে স্বাভাবিক জীবন কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই সেই জীবন অনিশ্চয়তায় ভরে ওঠে, যখন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তার পরিবারসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর থেকেই সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে গত শুক্রবার গভীর রাতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১১ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে বিজিবি তা প্রতিহত করে এবং তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে দেয়। এরপর থেকে তারা সীমান্তের ওপারে অবস্থান করছেন।
তিন দিন ধরে অনিশ্চিত অবস্থায় থাকা এসব মানুষের মধ্যে রয়েছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরাও। খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন পার করছেন তারা। স্থানীয় কিছু মানুষ মানবিক কারণে শুকনো খাবার দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।
রোজিনার পরিবারের সদস্যদের দাবি, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যায়, যেখানে আরও কয়েকশ মানুষ অবস্থান করছিলেন। পরে তাদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, গত ৫ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস এলাকায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা শনাক্ত করা হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবি সদস্যরা তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বর্তমানে তারা ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থান করছেন।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। তবে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।



