
নীলফামারী প্রতিনিধি (ডিজিটাল): ঈদুল আজহার আনন্দঘন আবহের মধ্যেই নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী ও স্মরণীয় আয়োজন। দীর্ঘ ৬৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই প্রাঙ্গণে মিলিত হলো তিন প্রজন্মের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। নীলফামারী সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত এই মহামিলন মেলা পরিণত হয় আবেগ, স্মৃতি ও ভালোবাসার এক অনন্য উৎসবে।
ঈদের পরদিন সকাল থেকেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটির চত্বর। একই রঙের পোশাকে সজ্জিত শত শত প্রাক্তন শিক্ষার্থী যেন ফিরে যান তাদের শৈশব-কৈশোরের দিনগুলোতে। কেউ প্রবীণ, কেউ মধ্যবয়সী, আবার কেউ সদ্য শিক্ষাজীবন শেষ করা তরুণ; বয়সের ভিন্নতা থাকলেও সবার পরিচয় ছিল একটিই—তারা পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের গর্বিত প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আলহাজ্ব আরজিনা বেগম।
প্রতিষ্ঠানের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আলহাজ্ব আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ও স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন আব্দুল হান্নান শাহ ও আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রুহুল আমিন মুন ও সাংবাদিক আল হেদায়েতুল্লা সুজন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আব্দুল গফুর হাসু।
দিনব্যাপী নানা আয়োজন, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই মহামিলন উৎসব। অনুষ্ঠান শেষে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সেদিন যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও স্মৃতির বন্ধন সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন ধরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল গফুর হাসু বলেন, “এই বিদ্যালয়টি আমাদের শেকড়। কর্মব্যস্ততার মাঝেও এই মাঠের টান আমাদের আবার এক করেছে। এতো বছর পর পুরনো বন্ধুদের ফিরে পেয়ে মনে হচ্ছে, আমরা আবার সেই কৈশোরেই ফিরে গেছি।”
সাবেক শিক্ষার্থী আল হেদায়েতুল্লা সুজন বলেন, “তিন প্রজন্মের এই মহামিলন এক অনন্য ইতিহাস। একজন সাংবাদিক হিসেবে অনেক অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ হলেও নিজের প্রিয় বিদ্যাপীঠের এই আবেগঘন ক্ষণের অংশ হতে পারাটা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুভূতি।”



