কোরবানির পশু কাটাকাটি করতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শতাধিক আহত

বাংলা টিভি ডেস্ক: কোরবানি ঈদের পশু জবাই করাসহ পশুর মাংস কাটাকাটি ও প্রক্রিয়া করতে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে আহত হয়ে শতাধিক বিভিন্ন বয়সী মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টার পর থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার বই (রোগীর তথ্যবই) থেকে এই পরিসংখ্যান জানা গেছে।
আহদের বেশিরভাগই হাত-পায়ের আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যেককেই জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে তাদের কারো অবস্থাই গুরুতর নয় বলে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের মধ্যে, তাজুল (৫৮), জাবেদ (১৮), হানিফ (২২), নওশাদ (২৫), মাশেক (২৫), সোহাগ (৪০), জিতনি (১৮), খায়ের (৩৫), আলভী (১২), বিশাল (২০) ও জাহাঙ্গীরসহ (৪২) আরও অনেকে। তাদের কারো হাতে কারোর পায়ে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে।
জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য পশু কোরবানি হয়েছে। এসব পশু কোরবানি করতে গিয়ে মৌসুমী কিছু কসাই এবং কোরবানি দাতাদের পরিবারের সদস্যরা পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে মাংসের বিভিন্ন অংশ কাটতে গিয়ে তাদের কারও হাতে কারো পায়ে ধারালো ছুরির আঘাত লেগে আহত হয়। তাদের প্রত্যেককে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে এ ধরনের রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহতদের মধ্যে শহরের কাজীপাড়ার সোহাগ মিয়া বলেন, মাংস কাটার সময় পায়ের নিচে রেখে কাটতে গিয়ে আমার পায়ে কুপ পড়ে যায়। এতে তার পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার পায়ে তিনটি সেলাই দেয়া হয়েছে।
একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর এলাকার আহত হানিফ মিয়া বলেন, ‘সকালে কোরবানি দেয়ার পর গরুর মাংস কাটার সময় অসাবধানতা বসত আমার হাতে ছুরি লেগে কেটে যায়। এতে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে সদর হাসপাতালে এসে ব্যান্ডেজ করার পর রক্ত বন্ধ হয়।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের বাইশমৌজা থেকে আসা মো. খায়ের জানান, আজ সকালে কোরবানির পশু মহিষ জবাই করার সময় সেটির বাঁধ ছিঁড়ে গিয়ে তার ওপর ছিটকে পড়ে। এতে তার শরীরের হাত, মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়ে আহত হন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক শুভ্র রায় জানান, সকাল থেকে প্রায় শতাধিক রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সবাই কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কারো অবস্থা গুরুতর নয়। আহতরা সবাই শঙ্কামুক্ত। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত আরও আহতরা হাসপাতালে আসছিলেন।



