
বাংলা টিভি ডেস্ক: দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে হাম। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে ৫১২ শিশু। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই মারা গেছে আরও ১৩ জন। পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত ৯ মাস বয়সে শিশুদের হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হলেও অনেক শিশু তার আগেই আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। ফলে নবজাতক থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরীরাও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। হাম শুধু জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়। ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের প্রদাহ, এমনকি মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদান কার্যক্রমে দীর্ঘ বিরতির কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তাদের দাবি, গত দেড় বছরে কয়েক কোটি শিশু নিয়মিত টিকার বাইরে থেকে যাওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে এখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। প্রতিদিনই নতুন নতুন শিশু ভর্তি হচ্ছে। অনেক পরিবার সন্তানদের নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন চিকিৎসার আশায়।
এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার জানিয়েছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৬২ হাজারের বেশি শিশু।



